অভিনেতা সইফ আলি খানকে কে ছুরি দিয়ে কোপাল? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। বুধবার মাঝরাতে সইফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে একেবারে বেডরুমে গিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মারা হল।
এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন সইফ আলি খানের একটি সার্জারি হয়ে গিয়েছে। শরীর থেকে বেরিয়েছে ২-৩ ইঞ্চির ধারাল বস্তু। ডাক্তাররা জানাচ্ছে, ছুরির ভাঙা অংশ। কসমেটিক সার্জারিও হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই সইফের বাড়িতে স্টাফদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। লীলাবতী হাসপাতালের সিওও ডাক্তার নীরজ উত্তামনি জানিয়েছেন,বান্দ্রায়নিজের বাড়িতে রাত ২টো নাগাদ হামলার শিকার হয়েছেন সইফ। ভোর সাড়ে ৩টেয় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সইফকে মোট ৬ বার ছুরি দিয়ে কোপানো হয়েছে। এর মধ্যে দুবার শরীরের গভীরে কোপানো হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। একটি কোপ সইফের মেরুদণ্ডের একেবারে কাছে রয়েছে, সেখানে গভীর ক্ষত।
মুম্বই পুলিশ জানাচ্ছে, ঘটনার দু ঘণ্টা আগে পর্যন্তও সিসিটিভি ফুটেজে বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেখা যায়নি। সে ক্ষেত্রে সন্দেহ, অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তি আগে থেকেই বাড়িতে লুকিয়ে থাকতে পারে। ওই ব্যক্তিকে লুকিয়ে থাকতে কেউ সাহায্য করেছে কিনা, সেই সন্দেহও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
সইফ আলি খান ও করিনা কাপুরের জনসংযোগ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করেছিলেন করিনা কাপুর ও অন্যান্যরা। কিন্তু সে পালিয়ে যায়।
তখন রাত ২টো। হঠাত্ চিত্কার। সইফ আলি খানকে ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছে এক ব্যক্তি। একাধিক বার কুপিয়ে সে পালিয়ে গেল। মাঝরাতে বাড়িতে ঢুকে কে হামলা করল, কেন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। লীলাবতী হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, অভিনেতা সইফ আলি খানকে রাত সাড়ে ৩টেয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রক্তাক্ত অবস্থায়। তাঁর চিকিত্সায় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। একটি অপারেশন হয়েছে। প্রতি মুহূর্ত মনিটর করা হচ্ছে।
প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। একটি কোপ সইফের মেরুদণ্ডের একেবারে কাছে রয়েছে, সেখানে গভীর ক্ষত। তাঁকে নিউরো সার্জেন ও কসমেটিক সার্জেন অপারেশন করছেন।
ইতিমধ্যেই লীলাবতী হাসপাতালে রয়েছেন সারা আলি খান ও ইব্রাহিম। পুলিশের অনুমান, বাড়িতে বসবাসকারীই কেউ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের স্পেশাল চিম গঠন করেছে মুম্বই পুলিশ।
মুম্বই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) দীক্ষিত গেদাম বলেন, 'এক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সইফ আলি খানের বাড়িতে ঢোকেন। তার পর অভিনেতার সঙ্গে ওই ব্যক্তির হাতাহাতি হয়। আহত অভিনেতার চিকিৎসা চলছে। তদন্ত চলছে।'
করিনা কাপুর ও সইফ আলি খানের জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, হামলার সময় কিনা কাপুর ও তাঁর সন্তানরা বাড়িতেই ছিলেন। ওই ব্যক্তি চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকেছিল। সইফকে ছুরি মারার পর পালানোর সময় পরিবারের লোকেরা ওই ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু পালিয়ে যায়।
বান্দ্রায় সইফের বাড়ির একটি পাইপ সইফের বেডরুম পর্যন্ত গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই পাইপ বেয়েই ঢুকে থাকতে পারে দুষ্কৃতী। সইফের সন্তানের ন্যানি আওয়াজ পান, এক পরিচারিকার সঙ্গে ওই দুষ্কৃতীর বচসা হচ্ছে। সইফ ঘটনাস্থলেই গেলেই ওই ব্যক্তি ছুরি বের করে কোপাতে শুরু করে দেয় সইফকে।
সূত্র বলছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে সইফ আলি খানের সন্তান তৈমুর ও জেহর ঘরে। সাইফের জনসংযোগ আধিকারিক বলছেন,আয়া (শিশু যত্ন সহকারী) রাত আড়াইটে নাগাদ কিছু শব্দ শুনে জেগে ওঠেন। সইফ আলির পুরো পরিবার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। শব্দ শুনে জেগে উঠে আক্রমণকারীর মুখোমুখি হন সইফ আলি খান।