১ এপ্রিল অর্থাত্ আজ থেকে ৯০০টিরও বেশি জরুরি ওষুধের দাম ১.৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে চলেছে। জাতীয় ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (NPPA) এই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। সংক্রমণ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ব্যথানাশক এবং ভাইরাল সংক্রমণের মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।
প্রতি বছর পাইকারি দাম বা Wholesale Price Index (WPI)-এর ওপর ভিত্তি করে ড্রাগস (প্রাইস কন্ট্রোল) অর্ডার, ২০১৩ (DPCO, 2013) অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের জন্য ওষুধের দাম ১.৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল লোকসভায় জানিয়েছেন, 'ওষুধের সর্বোচ্চ দাম প্রতি বছর WPI পরিবর্তনের ভিত্তিতে ঠিক করা হয়। এ বছর WPI অনুযায়ী জরুরি ওষুধের দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে।'
নতুন দাম অনুযায়ী, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সর্বোচ্চ দাম হবে:
অ্যান্টিবায়োটিক ও সংক্রমণের ওষুধ
আজিথ্রোমাইসিন (Azithromycin)
২৫০ মিগ্রা: ১১.৮৭ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
৫০০ মিগ্রা: ২৩.৯৮ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
আমোক্সিসিলিন + ক্লাভুলানিক অ্যাসিড (Amoxicillin + Clavulanic Acid, ড্রাই সিরাপ): ২.০৯ টাকা প্রতি মিলি
ব্যথানাশক ওষুধ
ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac): ২.০৯ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)
২০০ মিগ্রা: ০.৭২ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
৪০০ মিগ্রা: ১.২২ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
ডায়াবেটিসের ওষুধ
Dapagliflozin + Metformin Hydrochloride + Glimepiride: ১২.৭৪ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
ভাইরাল সংক্রমণের ওষুধ
এসাইক্লোভির (Acyclovir)
২০০ মিগ্রা: ৭.৭৪ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
৪০০ মিগ্রা: ১৩.৯০ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
ম্যালেরিয়ার ওষুধ
হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine)
২০০ মিগ্রা: ৬.৪৭ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
৪০০ মিগ্রা: ১৪.০৪ টাকা প্রতি ট্যাবলেট
ওষুধের দাম বাড়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসার খরচ আরও বাড়বে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বা আর্থরাইটিসের মতো রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য ওষুধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি কোনও সরকারি অনুমতি ছাড়াই এই নতুন মূল্যে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে। তবে, এই ওষুধগুলির দাম জাতীয় জরুরি ওষুধ তালিকা (NLEM)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে, যার ফলে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি করা যাবে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, 'ওষুধের দাম বাড়ানো স্বাভাবিক, কিন্তু সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষ খুব বেশি সমস্যায় না পড়ে। দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের জন্য ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।'
ওষুধের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন। তবে NPPA জানিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং এটি Wholesale Price Index-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। যদিও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে, সরকার কীভাবে সাধারণ মানুষের উপর এর প্রভাব কমাতে পারে, তা দেখার বিষয়।