গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী কোনও মহিলাই হবেন। তবুও দলটার নাম বিজেপি, শেষ মুহূর্তে চমক দিতেই পারে।
অনেকে ভেবেছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারানো প্রবেশ ভার্মা হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু একাধিক বৈঠকের পরে শেষ পর্যন্ত রাত ৮টায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, রেখা গুপ্তা হবেন মুখ্যমন্ত্রী।
রেখা গুপ্তা এবারেই প্রথমবার জিতে বিধায়ক হলেন। প্রথমবারের বিধায়ককে সোজা মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার নজির, এ দেশে হাতে গোনা।
৫০ বছর বয়সী রেখা গুপ্তা দিল্লির শালিমার বাগ আসনে ৩০ হাজার ভোটের মার্জিনে জিতেছেন। 'কাম হি পহেচান' অর্থাত্ কাজই পরিচয়, এই স্লোগানে ভোটে লড়েছিলেন তিনি।
ছাত্র রাজনীতি থেকেই উত্থান রেখা গুপ্তার। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ভোটে জিতেছিলেন প্রথমবার। তারপর কাউন্সিলর পদে লড়েছেন।
দক্ষিণ দিল্লি পুর নিগমের ৩ বারের কাউন্সিলর ও প্রাক্তন মেয়র। বিজেপি মহিলা মোর্চার সর্বভারতীয় সহসভাপতি রেখা অতীতে দিল্লি বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা পালন করেছেন।
দৌলত রাম কলেজ থেকে গ্র্যাজুটেয় রেখা ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত DUSU-র প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০৭ সালে প্রথমবার পুরভোটে জিতে কাউন্সিলর হন।
দিল্লিতে দীর্ঘদিন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিত। পরে আপ-এর অতিশী বিজেপি-র সুষমা স্বরাজ হয়েছেন।
দিল্লিতে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সেই লেগাসিকেই বেছে নিল বিজেপি। দিল্লিতে টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শীলা দীক্ষিত। ১৯৯৮ সালে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন প্রয়াত সুষমা স্বরাজ।
রেখাকে বাছাই করে রাজনীতিতে মহিলাদের অগ্রাধিকারের বিষয়টিও তুলে ধরার চেষ্টা করল বিজেপি। ৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি-র ৯ জন মহিলা প্রার্থী লড়াই করেছেন। ৪ জন জিতেছেন।
বিজেপি-র সঙ্গে রেখা গুপ্তা প্রায় ৩ দশক ধরে যুক্ত। দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ সামলেছেন। বিজেপি-র প্রতিটি স্তরের নেতৃত্ব দেখেছেন।
এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে কোনও রকম বিতর্কও নেই। একেবারে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন মুখ দিয়েই বাজিমাত করল বিজেপি।