
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জিবলি আর্ট’ (Ghibli Art) বেশ ট্রেন্ডিং। AI ChatGPT দিয়ে জিবলি স্টাইল ছবি ভাইরাল হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ‘জিবলি’ আসলে কী! জাপানের অন্যতম বিখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিও, স্টুডিও জিবলি (Studio Ghibli)। সেদেশে এর কথা শোনেননি, এমন মানুষের সংখ্যা কম। তবে যাঁরা জানেন না, তাদের জন্য এই প্রতিবেদনে থাকছে স্টুডিও জিবলির ইতিহাস এবং তাদের কাজের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আরও জানুন: ঘিবলি আর্ট ছবি কীভাবে বানাবেন, রইল সহজ পদ্ধতি
স্টুডিও জিবলির জন্ম
১৯৮৫ সালে দুই কিংবদন্তি অ্যানিমেটর হায়াও মিয়াজাকি (Hayao Miyazaki) এবং ইসাও তাকাহাতা (Isao Takahata)-র হাত ধরে যাত্রা শুরু স্টুডিও জিবলি-র। তাঁদের লক্ষ্য ছিল একদম নতুন ধরনের অ্যানিমেশন তৈরি করা। এমন অ্যানিমেশন. যেখানে জাপানের সংস্কৃতি, লোককথা, ইতিহাস ও আবেগ জড়িয়ে থাকবে। ‘জিবলি’ নামটি এসেছে ইতালীয় শব্দ 'ঘিবলি' থেকে, যার অর্থ 'গরম মরুভূমিতে বাতাস'। কারণ, তাঁরা চেয়েছিলেন অ্যানিমেশনের জগতে এক নতুন হাওয়া বইয়ে দিতে।
মিয়াজাকির অমর সৃষ্টি
স্টুডিও জিবলির প্রাণ হলেন হায়াও মিয়াজাকি। তাঁর বানানো অ্যানিমেশন সিনেমাগুলো শুধুমাত্র শিশুদের জন্য নয়, বড়দের জন্যও এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ‘My Neighbor Totoro’, ‘Spirited Away’, ‘Howl’s Moving Castle’, ‘Princess Mononoke’—এই অসাধারণ চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে প্রতিটির গল্প আলাদা। কিন্তু সব গল্পেই এক জায়গায় মিল— সৌন্দর্য ও ডেপথ-এ। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া Spirited Away অস্কার জিতেছিল। জাপানে ঘরে ঘরে সবাই মিয়াজাকিকে কিংবদন্তি হিসাবে চেনেন।
সিনেমার বিষয়গুলিও অনবদ্য। 'গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইজ'-এ যেমন ফুটে উঠেছে পরমাণু বিধ্বস্ত জাপানে দুই ভাইবোনের সংগ্রাম, লড়াই, ভালবাসা... তেমনই 'উইন্ড রাইজেজ'-এ ফুটে উঠেছে বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানে এক তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের জীবন, প্রেম, প্রিয়তমাকে হারানোর কাহিনী। মাই নেবর টোটোরেতে দুই বোনের মা-কে হারানোর ভয় যেমন আপনার চোখে জল আনবে, তেমনই হাউল্স মুভিং ক্যাসেলের কল্পনার জগত এক মোহের জগতে হারিয়ে দেবে আপনাকে।
জিবলির অ্যানিমেশন এবং চিত্রশৈলী বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে তৈরি। বিশদ ব্যাকগ্রাউন্ড, হাতের আঁকা প্রতিটি দৃশ্য, অ্যানিমেশন চরিত্রদের অভিব্যক্তি—সবকিছুতেই এক গভীর অনুভূতি আছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, রহস্যময় জগৎ, কল্পনা এবং নিখুঁত হাতে আঁকা অ্যানিমেশনই এই শিল্পকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
AI দিয়ে শিল্প চাননি মিয়াজাকি
২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে মিয়াজাকি এআই-এর মাধ্যমে ছবি-অ্যানিমেশন আঁকার বিরোধিতা করেছিলেন। এআই মূলত জিবলি-রই অজস্র ছবির গড়ন চিনে সেটা অনুকরণ করে ছবি তৈরি করছ্যে ফলে আদতে সেটি জিবলি স্টুডিও-র শিল্পীদের অনুকরণ বলা যেতে পারে। মিয়াজাকি তার নিন্দা করে বলেছিলেন, যাঁরাই এভাবে ছবি তৈরির ব্যবস্থা করছেন, তাঁরা জানেন না কষ্ট কী জিনিস... আমার মতে এটা হওয়া উচিৎ নয়, এটি দুঃখজনকা'
তাই ট্রেন্ডে গা ভাসানোর আগে, জিবলি-র স্রষ্টার কথাগুলি একবার ভেবে দেখতে ভুলবেন না।
স্টুডিও জিবলি এখনও নতুন নতুন সিনেমা তৈরি করছে। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া The Boy and the Heron আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে মিয়াজাকির গল্প বলার ক্ষমতা এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
যদি আপনি এখনও জিবলি ফিল্ম না দেখে থাকেন, তাহলে আজই দেখে ফেলুন। ভারতে Netflix-এ জিবলি স্টুডিও-র বিভিন্ন সিনেমা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিগুলির আসল সৌন্দর্য বুঝতে হলে জিবলি স্টুডিওর সিনেমাগুলি দেখা চাই-ই চাই।