জামশেদপুরে পৌঁছেই ফুরফুরে মেজাজে মোহনবাগান। লিগ শিল্ড জয়ের রেশ কাটিয়ে এবার মিশন আইএসএল কাপ। সেমিফাইনালে আজ সামনে জামশেদপুর এফসি। চিন্তা মনবীর সিং ও আপুইয়া রালতের না থাকা।
সবুজ-মেরুন যেমন সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে, তেমনই প্রায় একমাস ম্যাচের মধ্যে নেই। আইএসএলের শেষ ম্যাচ খেলেছে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। মাঝে দীর্ঘ এক বিরতি। এই বিষয়টা কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখছে সবুজ-মেরুন শিবিরকে। যদিও কোচ হোসে মলিনার কথায়, 'মাঝে অনেকটা সময় ম্যাচের মাঝে না থাকলেও, প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি ছিল না।'
আইএসএলে দু'বার লড়াই হয়েছে মোহনবাগান ও জামশেদপুরের। যুবভারতীতে জিতেছিল মোহনবাগান। কিন্তু জামশেদপুরের মাঠে ফিরতে হয়েছিল ড্র করে। সেই ম্যাচের ফল নিয়ে একেবারেই হতাশ নন কোচ মলিনা, 'আগের ম্যাচে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না। জামশেদপুরের মাঠে ড্র করার পরেও বলেছিলাম, এটাই মরসুমের অন্যতম সেরা ম্যাচ। জয় আসেনি ঠিকই, কিন্তু পারফরমেন্সের
দিক থেকে সেরা ছিল। আগেরবার ড্র হয়েছিল বলে, হার বাঁচানোর ভাবনা নিয়ে নামব, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। ওরা বেশ ভাল দল। তবে আমাদের নিয়ে ওরাও নিশ্চয় চিন্তায় থাকবে।'
সেমিফাইনাল হবে দু'দফার। অর্থাৎ আজ জিতলেই যেমন ফাইনালের ছাড়পত্র আসবে না, তেমনই আজ হারলেও ফিরতি ম্যাচে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে। চোটের জন্য মনবীর ও আপুইয়া দলের সঙ্গে যেতে পারলেন না। তবে চোট সারিয়ে ফিরছেন মোহনবাগানের গোলমেশিন জেমি ম্যাকলারেন ও সাইডব্যাক আশিস রাই। মনবীর, আপুইয়ার জায়গা ভরাট করার জন্য রয়েছেন অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাংরি, সাহাল আব্দুল সামাদ ও আশিক ক্রুনিয়ান।
গত মরসুমে মুম্বই সিটিকে লিগের শেষ ম্যাচে হারিয়ে শিল্ড ঘরে তুললেও প্লেঅফ ফাইনালে মুম্বইয়ের কাছে হেরেই নকআউট ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল মোহনবাগানের। সেই আক্ষেপটা এবার মেটাতে মরিয়া অধিনায়ক শুভাশিস, জেসন কামিন্স, দিমিত্র পেত্রাতোস, লিস্টন কোলাসোরা। জামশেদপুর কোচ খালিদ জামিলের গলায় মোহনবাগান নিয়ে সমীহের সুর। তবে নর্থ ইস্টকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আত্মবিশ্বাস নিয়ে খালিদের বক্তব্য, 'মোহনবাগান সব বিভাগেই শক্তিশালী। কিন্তু সেটা ভেবে কুঁকড়ে থাকার কোনও প্রশ্ন নেই।'