ভারতীয় ক্রিকেটের দুই তারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার সঙ্গে চুক্তি রিনিউ করল বিসিসিআই। আগামী ২০২৫-২৬ সিজনেও বিসিসিআই-এর এ+ গ্রেডের চুক্তিতে থাকছেন তাঁরা। অন্যদিকে, গতবার বাদ পড়া শ্রেয়াস আইয়ার আবার এই তালিকায় ফেরার পথে। বিসিসিআই বিরাট ও রোহিতকে এ গ্রেডেই ধরে রাখতে চায়। ফলে তাঁরা ৭ কোটি টাকার বার্ষিক পারিশ্রমিক পাবেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেললেও আগের মতোই বেতন গ্রেডে থাকবেন।
গত বছর বার্বাডোজে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত ও কোহলি তাদের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারের ইতি টানেন। বিসিসিআই-এর এক সূত্রের খবর, 'রোহিত ও বিরাট এ+ গ্রেড চুক্তিতে থাকবেন, তাঁরা বড় মাপের খেলোয়াড়। তাই যথাযোগ্য সম্মান পাবেন। শ্রেয়াস আইয়ারও চুক্তিতে ফিরতে চলেছেন।'
সাদা বলের ক্রিকেটে আইকনিক হলেও, রোহিত সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মহীনতার ধাক্কায় বিপর্যস্ত। টি-টোয়েন্টি থেকে সরে যাওয়ার পর থেকেই তার ব্যাট কার্যত নীরব।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্যসমাপ্ত তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভারত ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও, রোহিত ছিলেন ব্যর্থ। তিন টেস্টে মাত্র ৯১ রান করেছেন, গড় মাত্র ১৫.১৭। তার আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই টেস্টে করেছিলেন মাত্র ৪২ রান, গড় ছিল ১০.৫০।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরও হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। পাঁচ ইনিংসে মাত্র ৩১ রান, গড় ৬.২০। ফলে তার টেস্ট ফর্ম নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে।
বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির ১০ ইনিংসে কোহলি মাত্র ১৯০ রান করেন। ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর তার পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালে কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৬৫৫ রান করেছেন ২৩ ম্যাচ ও ৩২ ইনিংসে, গড় ২১.৮৩। পুরো বছরে মাত্র এক শতরান ও দুইটি অর্ধশতরান এসেছে তার ব্যাট থেকে। সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ১০০।
গতবার জাতীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে শ্রেয়াস আইয়ার ও ঈশান কিষাণের ঘরোয়া ক্রিকেট এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে শ্রেয়াস এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আবারও নজরে এসেছেন।
মুম্বাইয়ের হয়ে সর্বশেষ রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে ৫ ম্যাচে ৪৮০ রান করেছেন, গড় ৬৮.৫৭ এবং স্ট্রাইক রেট ৯০.২২। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ৯ ম্যাচে ৩৪৫ রান করে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫ ম্যাচে ৩২৫ রান করে গড় ৩২৫.০০ বজায় রেখেছিলেন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভারতীয় দলে জায়গা পেয়ে ২৪৩ রান করেন, যা ছিল ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ। ফলে বিসিসিআই তাকে আবারও কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরানোর কথা ভাবছে।