বর্তমানে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবনযাত্রার অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ইতিহাস এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জীবনযাত্রার অনিয়ম:
ধূমপান ও মাদকাসক্তি: ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্তে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ায়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। মাদকদ্রব্য হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে, যা অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
অলস জীবনযাপন ও স্থূলতা: নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
বাইরের খাবার, বিশেষ করে ফাস্ট ফুডে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি থাকে, যা রক্তনালিতে চর্বি জমার মাধ্যমে হার্টের ক্ষতি করতে পারে।
মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম:
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হৃদযন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, যা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
পারিবারিক ইতিহাস:
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: ধূমপান ও মাদক থেকে বিরত থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
সুষম খাদ্যাভ্যাস: কম তেল-ঝালযুক্ত খাবার, প্রোটিন সমৃদ্ধ ও শাকসবজি বেশি পরিমাণে খাওয়া।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সচেতন জীবনযাপন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিকল্প নেই।