বর্তমান সময় কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রা , অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরে ফাইবারের অভাব, স্ট্রেস ও আরও বেশ কিছু কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এই সমস্যা যে কোনও বয়সের মানুষেরই হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পরিপাকতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মল ত্যাগ করতে সমস্যা হয়।
জোলাপ বা ল্যাক্সেটিভ
কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা, যা বেশিরভাগ মানুষ শুরুতে উপেক্ষা করে। কোনও ওষুধ, জোলাপ বা ল্যাক্সেটিভ খেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য সাময়িক দূর করা গেলেও, এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান জরুরি। অনেকে আবার জোলাপে আসক্ত হয়ে পড়েন। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হল জীবনযাত্রার পরিবর্তন। যার মধ্যে অনেক বেশি করে জল, ফাইবার ডায়েট এবং শারীরিক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এছাড়াও, যতটা সম্ভব মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা
যদি কারও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি খুব কষ্টে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্যর কারণে, পেট ফাঁপা বা ভার অনুভব করতে শুরু করে। পেট পরিষ্কার করার জন্য, অনেকে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকেন। এর ফলে অর্শ রোগে আক্রান্ত হন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই হতে পারে। যদিও এটি একটি সাধারণ সমস্যা। আপনিও যদি কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যায় ভোগেন, তাহলে কিছু জিনিস খাওয়া আপনার জন্য খুবই উপকারী হতে পারে। জেনে নিন নিয়মিত কী খেলে পেট পরিষ্কার হবে এবং আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবেন।
ফাইবার ডায়েট
ফাইবার আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট যা শরীরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার রয়েছে, যেগুলি ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করলে উপকার পাবেন।
শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং হজমের উন্নতিতে সাহায্য করে ফাইবার। এছাড়াও পেট দীর্ঘ সময়ের জন্য ভরা রাখে। ফাইবারকে ওজন কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ এটি আপনার পেটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভরা রাখে এবং আপনার জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। জানুন ডায়েটে কী কী খাবার রাখলে পেট সাফ হবে সহজে।
চিয়া বীজ
আপনার ডায়েটে চিয়া বীজ অন্তর্ভুক্ত করুন এবং এর আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য সুবিধাগুলি উপভোগ করুন। এটি একটি সুপারফুড যাতে ফাইবার, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস এবং ওমেগা -৩ এবং ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সহ অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে। মাত্র এক টেবিল চামচ চিয়া বীজে প্রায় ৫.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী করে তোলে।
ছোলা
ছোলা কপার, ম্যাঙ্গানিজ, প্রোটিন, ফোলেট এবং ওমেগা -৩ এবং ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এটি সহজেই ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বা ডিনারে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এক কাপ রান্না করা ছোলাতে প্রায় 8 গ্রাম ফাইবার থাকে, যা এটিকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
ডাল
ডাল ফাইবারের অন্যতম সেরা উৎস, যা সহজেই প্রতিটি রান্নাঘরে পাওয়া যায়। এটি সুস্বাদু এবং পেট ভরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ফোলেট, প্রোটিন এবং ফসফরাসের মতো পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এক কাপ রান্না করা মুসুর ডালে প্রায় ১৫.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মসুর ডালের স্যুপ তৈরি করুন এবং খান।
ব্রকলি
ব্রকলি ফাইবারের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন-সি এর একটি ভাল উৎস। ১০০ গ্রাম ব্রকলিতে প্রায় ২.৬ গ্রাম ফাইবার পাওয়া যায়, যা এটিকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী করে তোলে।