আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে কিডনি। কিন্তু দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের কিছু ভুলের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কিছু খাবার নিয়মিত খেলে কিডনির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। জেনে নিন এমন কিছু খাবারের তালিকা, যেগুলি কিডনির পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অনেকেই খাবারে অতিরিক্ত নুন খান, যা কিডনির জন্য ভয়ঙ্কর। নুুনে থাকা সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায় এবং কিডনির উপর চাপ ফেলে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বেশি নুন খেলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত সস বা স্ন্যাক্সে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, চিনি এবং প্রিজারভেটিভ থাকে। এগুলি কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত প্রসেসড ফুড খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো জাঙ্ক ফুডে অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্স ফ্যাট ও প্রিজারভেটিভ থাকে। এগুলি কিডনিতে ক্ষতিকর টক্সিন জমা করে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের খাবার খেলে কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে।
বেশি চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস হলে কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে কিডনির কার্যকারিতা কমতে শুরু করে।
সফট ড্রিঙ্ক বা এনার্জি ড্রিঙ্কে ফসফরাস থাকে, যা কিডনির স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয়। নিয়মিত এই ধরনের পানীয় পান করলে কিডনির ক্ষতি হয় এবং পাথর হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।
অনেকেই ওজন কমাতে ও মাসল বাড়াতে বেশি প্রোটিন খান। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কিডনির উপর চাপ ফেলে। বিশেষত, যাঁদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য উচ্চ প্রোটিন ডায়েট বিপজ্জনক। জিম করে বেশি প্রোটিন খেলে সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে ভুলবেন না। ডায়েটিসিয়ানের পরামর্শ নিয়ে ঠিক সেই পরিমাণেই প্রোটিন খান।
অনেকে ব্যথানাশক ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক নিয়মিত খান, যা কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়।
পর্যাপ্ত জল খান।
লবণ ও চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ফ্রেশ ফল ও শাকসবজি খান।
প্রসেসড ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
কিডনি সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা বজায় রাখুন।