সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য ডায়েটিং করা ভালো, তবে ভুল ডায়েট আপনাকে ওজন কমানোর পরিবর্তে আরও দুর্বল ও অসুস্থ করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পুষ্টি ছাড়া ওজন কমানোর প্রচেষ্টা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। ক্যালোরি কমানোর নামে দীর্ঘদিন অপুষ্টিকর খাবার খাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত উপবাস বা অস্বাস্থ্যকর ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করলে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ভুল ডায়েটের কারণে কী সমস্যা হতে পারে?
শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব দেখা দেয়, ফলে ক্লান্তি ও দুর্বলতা বেড়ে যায়।
বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে ওজন কমার বদলে আরও বাড়তে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পেশী ক্ষয় হতে পারে, যা শরীরকে দুর্বল ও অকার্যকর করে তোলে।
মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, বিষণ্ণতা বা উদ্বেগ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ৫টি বড় ভুল যা আপনাকে দুর্বল করে তুলতে পারে:
১. কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া
অনেকেই মনে করেন, ওজন কমাতে হলে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া একেবারে বন্ধ করা উচিত। কিন্তু এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। কার্বোহাইড্রেট শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। এটি না খেলে শরীর পেশী ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করতে বাধ্য হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে দুর্বলতা সৃষ্টি করে।
সঠিক উপায়: পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (সাদা রুটি, ময়দা) বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট (বাদামি চাল, ওটস, ফল) গ্রহণ করুন।
২. অত্যধিক ক্যালোরি কমানো
অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অত্যধিক ক্যালোরি হ্রাস করেন, যা বিপাক ক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং শরীর স্ট্রেস মোডে চলে যায়। এতে শরীর পেশী ভাঙতে শুরু করে, ফলে দুর্বলতা, নিম্ন রক্তচাপ ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সঠিক উপায়: শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত ক্যালোরি গ্রহণ করুন। খুব কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে ওজন কমার বদলে আরও বাড়তে পারে।
৩. শুধুমাত্র তরল খাবার গ্রহণ করা
জুস বা স্যুপ ডায়েট অনেক জনপ্রিয় হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এতে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ফাইবারের অভাব ঘটে, যা শরীরকে দুর্বল ও ক্লান্ত করে তোলে।
সঠিক উপায়: তরল খাবারের পাশাপাশি শক্ত ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারও গ্রহণ করুন।
৪. সম্পূর্ণ চর্বি বাদ দেওয়া
অনেকেই মনে করেন চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু এটি হরমোন নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পূর্ণ চর্বি বাদ দিলে ত্বক ও চুলের ক্ষতি হয়, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকচক্রে গোলযোগ দেখা দিতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে।
সঠিক উপায়: ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে চলুন, তবে অ্যাভোকাডো, বাদাম ও দেশি ঘি-এর মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করুন।
৫. শুধু কার্ডিও করা, শক্তি প্রশিক্ষণ উপেক্ষা করা
ওজন কমাতে শুধুমাত্র কার্ডিও ব্যায়াম করলে পেশী ক্ষয় হতে পারে, ফলে শরীর দুর্বল ও নিস্তেজ দেখায়।
সঠিক উপায়: ওজন কমানোর পাশাপাশি শক্তি প্রশিক্ষণ বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করাও জরুরি, যা বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে শরীরকে শক্তিশালী করে।
স্বাস্থ্যকর ডায়েটিংয়ের সঠিক উপায়:
সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন— প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট সঠিক অনুপাতে রাখুন।
খুব কম ক্যালোরি গ্রহণ করবেন না— শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি যেন বজায় থাকে তা নিশ্চিত করুন।
শক্তি প্রশিক্ষণ করুন— শুধু কার্ডিও নয়, ওজন প্রশিক্ষণ বা যোগব্যায়াম করুন।
পর্যাপ্ত জল পান করুন— পানিশূন্যতা বিপাক ক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন— কম ঘুম ওজন কমার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।