২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এই দিনে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হওয়ার ঘোষণা দেয়। ১৯৭১ সালে এই দিন থেকেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, যা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ১৬ ডিসেম্বর জয়ের মাধ্যমে শেষ হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের শুরু ১৯৪৭ সালে, যখন ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান নামে নতুন একটা দেশ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান তখন দুই ভাগে ভাগ ছিল— পশ্চিম পাকিস্তান (বর্তমান পাকিস্তান), পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ)। কিন্তু শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তান সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। বাংলা ভাষা, অর্থনীতি আর রাজনীতির ওপর পাকিস্তানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলত।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চায়। কিন্তু বাঙালিরা বাংলা ভাষার দাবিতে রাস্তায় নামে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে অনেক তরুণ শহিদ হন। এরপর বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। জনসংখ্যায় বেশি হলেও পূর্ব পাকিস্তান সবসময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসনের নীচে ছিল। নিজেদের দেশ চালানোর অধিকার ছিল না।
দেশের আয়-রোজগারের বড় অংশ করলেও, সেই টাকা পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নের জন্য তেমন কিছুই করা হত না।
শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংসদ নির্বাচনে ১৬২টির মধ্যে ১৬০টি আসনে জয় পায়। কিন্তু পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আর ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেন।
ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শেখ মুজিবুর রহমান লাখো মানুষের সামনে বলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম!' এটাই ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক।
এই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় আক্রমণ চালায়। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। একে বলা হয় "অপারেশন সার্চলাইট", যা আসলে ছিল গণহত্যা।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
স্বাধীনতার ঘোষণার পর মুক্তিবাহিনী গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক সবাই অস্ত্র হাতে নেয়। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণে লড়ে যায়। নয় মাস যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেয়!
এই দিনেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এই দিন থেকেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। লাখো শহিদ আর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের দিন এটি। বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ করতে লড়াই শুরু করেছিল এই দিনে।
স্বাধীনতার ঘোষণার পর মুক্তিবাহিনী গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক সবাই অস্ত্র হাতে নেয়। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে জয় এসেছিল ভারতেরই সাহায্যে।