West Bengal Election 2026: হাতে গোনা! বাংলার এই ৬ আসনে ২০২১ এ ভোটের ব্যবধান ছিল খুব কম

Bengal election 2026 swing seats: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার লড়াই শুধু বড় আসনে নয়। আসল খেলা লুকিয়ে রয়েছে অতি অল্প ব্যবধানের নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে।

Advertisement
হাতে গোনা! বাংলার এই ৬ আসনে ২০২১ এ ভোটের ব্যবধান ছিল খুব কমআসল খেলা লুকিয়ে রয়েছে অতি অল্প ব্যবধানের নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে।
হাইলাইটস
  • সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬।
  • বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার লড়াই শুধু বড় আসনে নয়।
  • আসল খেলা লুকিয়ে রয়েছে অতি অল্প ব্যবধানের নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে।

Bengal election 2026 swing seats: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার লড়াই শুধু বড় আসনে নয়। আসল খেলা লুকিয়ে রয়েছে অতি অল্প ব্যবধানের নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে ৬টি এমন আসনও ছিল, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১০০০ ভোটেরও কম। এই আসনগুলিতে সামান্য ভোটের হেরফেরই পুরো রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে লড়াই ছিল কার্যত ‘কাঁটায় কাঁটায়’। যেমন দিনহাটা কেন্দ্রে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৭ ভোট। একইভাবে জলপাইগুড়ি, নন্দীগ্রাম, ফালাকাটা, ধূপগুড়ি, কোচবিহার দক্ষিণ আসনগুলিতেও ব্যবধান ছিল অনেকটাই কম।  

৫ হাজারের কম ব্যবধান ছিল, এমন কিছু উল্লেখযোগ্য আসন

আসন জয়ী প্রার্থী দল ব্যবধান (ভোট)
দিনহাটা নিশীথ প্রামাণিক বিজেপি 57(যদিও পরে উপনির্বাচনে হেরে যান নিশীথ)
জলপাইগুড়ি প্রদীপ কুমার বর্মা তৃণমূল 941
নন্দীগ্রাম শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি 1,956
ফালাকাটা দীপক বর্মন বিজেপি 3,990
ধূপগুড়ি বিষ্ণুপদ রায় বিজেপি 4,355
কোচবিহার দক্ষিণ নিখিল রঞ্জন দে বিজেপি 4,931

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের আসনকে বলা হয় ‘সুইং সিট’। এখানে মাত্র ১-২ শতাংশ ভোটের পরিবর্তনই ফলাফল বদলে দিতে পারে। প্রার্থী নির্বাচন, স্থানীয় ইস্যু, বুথ ম্যানেজমেন্ট; সব কিছুই এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

ভোট ব্যবধানের নিরিখে বিন্যাস।
ভোট ব্যবধানের নিরিখে বিন্যাস।

এ বার ২০২৬-এর নির্বাচনে এই আসনগুলিকে ঘিরে আলাদা করে কৌশল নিচ্ছে শাসক ও বিরোধী; দুই পক্ষই। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পুরনো ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এবং নতুন ভোটার টানতে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করার দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এবং শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন আসনগুলিতে আলাদা করে প্রচার বাড়ানো হচ্ছে।

এই আসনগুলির ক্ষেত্রে স্থানীয় ইস্যুই হয়ে উঠতে পারে প্রধান ফ্যাক্টর। যেমন দিনহাটা বা কোচবিহার দক্ষিণে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা বড় ভূমিকা নেয়। আবার নন্দীগ্রাম বা ধূপগুড়ির মতো এলাকায় শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে ফালাকাটা ও জলপাইগুড়ির মতো এলাকায় উন্নয়ন এবং সংগঠনের শক্তি ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভোটার তালিকার পরিবর্তন। SIR সংশোধনে বহু আসনে ভোটার বাদ পড়েছে। ফলে এই পরিবর্তনও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ৬টি আসনের মধ্যে যদি কোনও একটি দল ৪-৫টি আসন নিজেদের দখলে রাখতে পারে, তবে নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য বিষয় হবে। অর্থাৎ, সংখ্যার দিক থেকে ছোট হলেও এই আসনগুলির গুরুত্ব অপরিসীম।

Advertisement

২০২৬-এর বাংলার নির্বাচন যে অত্যন্ত টানটান হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। বড় এলাকাগুলির পাশাপাশি তাই নজর থাকবে এই ‘মাইক্রো মার্জিন’ আসনগুলির দিকেও। কারণ শেষ পর্যন্ত, কয়েকশো ভোটই ঠিক করে দিতে পারে বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যত। 

POST A COMMENT
Advertisement