ভোটমুখী বাংলায় কেন চাকরির থেকে বড় ইস্যু বেকার ভাতাপশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক দিন ঘোষণার আগেই তৃণমূল, বিজেপি যুযুধান দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে ভোট রণনীতি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে।
এমতাবস্থায় রাজ্য বাজেটে নতুন একটি প্রকল্প সামনে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পটির নাম যুবসাথী। এই প্রকল্প সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি যে কোনও বেকার যুবক-যুবতী মাসে মাসে ১৫০০ টাকা পাবেন। এক্ষেত্রে শর্ত একটাই, মাধ্যমিক পাশ করতে হবে। ব্যাস, তাহলেই মিলবে টাকা।
আর সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প ঘোষণার পরই আক্রমণ করতে ছাড়েনি বিজেপি। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বাংলায় শিল্প নেই, কারখানা নেই। নেই চাকরি। আর সেই কারণেই বেকার ভাতা দিয়েই যুব সম্প্রদায়ের ক্ষোভকে প্রশমিত করতে চাইছে তৃণমূল। সরাসরি টাকা দিয়ে কিনতে চাইছে ভোট।
যদিও মুখে বিরোধীতা করলেও সেই তৃণমূলের পথেই আবার হাঁটল বিজেপি। তাঁরা যুবসাথীর পাল্টা হিসেবে উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিতে চলেছে নিজেদের নির্বাচনী সংকল্প পত্রে। এক্ষেত্রে বিজেপি ভোটে জিতলে বেকারদের বছরে দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা। এটাও পাবেন ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা।
আর তৃণমূল, বিজেপির এই ভাতা প্রবণতা দেখেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এখন কি চাকরি নয়, ভাতাই ভোটের ইস্যু? ভাতা দিয়েই সরাসরি ভোট বৈতরণী পেরনো সম্ভব? এর মাধ্যমে কি বেকারত্বের মতো সমস্যাকে চাপা দেওয়া যায়?
আর এই প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র বলেন, 'সাধারণত নিম্মবিত্ত মানুষ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে বেশি উৎসাহী। আর ভাতার মাধ্যেমে এই মানুষের পকেটেই সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়। যার ফলে ভোটে যে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, এটা বলাই বাহুল্য! তবে এই বেকার ভাতা কোনওভাবেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। উল্টে এভাবে ভাতা দিতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা বাড়তে পারে।'
পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, 'আগে বাম সরকার বা ইউপিএ সরকারও ভাতা দিত। কিন্তু তারা একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভাতা দিত। এমনকী মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল ১০০ দিনের কাজ। যদিও এখন সে সবের বালাই নেই। সরাসরি পকেটে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ভাতা। শুধু ভোটকে সামনে রেখেই এই সব করা হচ্ছে। এটা কোনও সমাধান নয়।'
কেন তৃণমূলকে আক্রমণ করে একই পথে পথিক বিজেপি?
এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, 'আমাদের রাজ্যে কারখানা নেই। শিল্প নেই। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলছে। তবে সেটা দিয়েও ভোট পেরনো যাবে না। CPIM-ও ভাতা দিয়েছিল। তাতেও লাভ হয়নি। ভোটে হেরেছে। তৃণমূলও হারবে। আর বিজেপি এলে বেকারদের ততদিন ভাতা দেবে, যতদিন না শিল্প হয়, ব্যবসা বাড়ে। একবার বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো এখানে কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা বৃদ্ধি পেলে, আর ভাতা দেওয়া হবে না। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত বেকার মানুষদের পাশে থাকতে এই ভাতা দেওয়া হবে।'
ভাতা নিয়ে কী বলছে তৃণমূল?
সারা দেশেই কর্ম সংস্থানের হাল খারাপ। আর বাংলাও ভারতের অংশ হওয়াও এখানে বেকারত্বের সমস্যা রয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, 'বিজেপি বছরে বছরে ২ কোটি চাকরি দেবে বলেছিল। তবে সেটা সম্ভব হয়নি। সারা দেশে বেড়েছে বেকারত্ব। পশ্চিমবঙ্গেও রয়েছে বেকার। আর তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই যুবসাথীর মতো প্রকল্প এনেছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেকার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে চায়। তাঁদের যাতে সব কিছুর জন্য পরিবারের উপর নির্ভরশীল হতে না হয়। বিজেপির ক্ষমতা নেই এভাবে ভাবার।' যদিও তিনি এই ভাতার সঙ্গে সরাসরি ভোটের সম্পর্ক রয়েছে বলে মানতে চাননি।