অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (২০২১ সালের ছবি)মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভিক্টিম কার্ড রাজনীতি নিয়ে খোঁচা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ অর্থাত্ শনিবার কলকাতায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট' পেশ করার অনুষ্ঠানে শাহের দাবি, SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বারবার নিশানা করে বেচারা সাজতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহের এই নিশানার পরেই একজন মহিলাকে কটাক্ষের অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। মনে করাল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই 'দিদি, ও দিদি' মন্তব্যও।
ভিক্টিম কার্ড রাজনীতি নিয়ে শাহের খোঁচা
শাহের কথায়, ' ভোট এলেই মমতা পা ভেঙে ফেলেন, মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে জনগণের কাছে ভিক্টিম কার্ড খেলেন। SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বারবার নিশানা করে বেচারা সাজতে চাইছেন। আপনার এই ভিক্টিম কার্ড রাজনীতি জনতা বুঝে গিয়েছে।'
In 2021, @narendramodi catcalled Smt. @MamataOfficial like a roadside Romeo with his cheap “Didi, O Didi” jibe.
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) March 28, 2026
Now in 2026, @AmitShah has shown the same misogynistic, regressive mindset by mockingly dismissing her head injury and fractured leg as “victim cards”.
This is… https://t.co/wWSLZchkFT
মমতার বিরুদ্ধে ভিক্টিম কার্ডের রাজনীতির কটাক্ষ করতেই তৃণমূল কংগ্রেস শাহকে নিশানা করল মহিলাকে কটূক্তির অভিযোগ তুলে। এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল মনে করাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই 'দিদি ও দিদি' কটাক্ষ। তৃণমূলের লিখল, 'বিজেপি মহিলাদের কী চোখে দেখে, অমিত শাহের মন্তব্যেই তার প্রমাণ মিলল। একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে ন্যূনতম সৌজন্য ও সম্মান দিতে জানে না।'
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে শাহের দাবি,পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গে এক সরকার হবে। বলেন, ‘অনেক বছর পর বাংলা বিহার ওড়িশায় একই দলের সরকার হতে চলেছে। এই ভোট প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, স্বাধীনতা চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, জনবিন্যাস পরিবর্তনের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, রোজগার চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট। একগুচ্ছ ভরসার পক্ষে দাঁড়ানোর ভোট।’
SIR ইস্যুতে অন্য রাজ্যের প্রসঙ্গ টানলেন শাহ
এসআইআর প্রসঙ্গে কেরল-তামিলনাড়ুর মতো বিরোধী রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে শাহর অভিযোগ, 'শুধু বাংলাতেই এসআইআরের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। এখানেই ভোটার বাছতে বিচারকদের ভার দেওয়া হয়েছে। আর কোথাও এমনটা হচ্ছে না।'
এদিন অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও পশ্চিমবঙ্গকে একনম্বরে রাখলেন শাহ। তাঁর দাবি, এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? উনি অবশ্য প্রশ্ন তুলবেন, বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে দেবেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রকে দেবে।