সংগৃহীত ছবিভবানীপুরে ভোটের প্রচারে অভিনব কৌশল নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ‘ফোটো বুথ’ বা ‘ফোটো কর্নারে’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারবেন, এমন উদ্যোগ রাজ্যের রাজনৈতিক প্রচারে একেবারেই নতুন বলেই মনে করছেন অনেকেই।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছর ধরে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেখা গিয়েছে। এবার সেই লড়াই সরাসরি ভোটের ময়দানেও প্রতিফলিত হতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রচারে নতুনত্ব আনতেই তৃণমূলের এই উদ্যোগ। দলের ‘জয়হিন্দ বাহিনী’র সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায় ভবানীপুরের একাধিক ওয়ার্ডে এই ফোটো বুথ বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তদল মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি বুথ বসানো হয়েছে।
ফোটো বুথটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে এক পাশে মুখ্যমন্ত্রীর হাতজোড় করা ছবি থাকে এবং অন্য পাশে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে ভোটাররা ছবি তুলতে পারেন। বুথের উপরে তৃণমূলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং স্লোগান লেখা রয়েছে, উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেওয়ার আহ্বান। নিচে আবার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন ছবি তুলছেন, তেমনই পথচলতি মানুষও আগ্রহ নিয়ে এই প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। অনেকে গাড়ি থামিয়ে নেমে ছবি তুলছেন, এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভবানীপুরে লড়াইকে তৃণমূল কোনওভাবেই হালকা করে দেখছে না। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, 'এক ভোটে হলেও আমি ভবানীপুর থেকে জিতব।'
ভোট পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ নেতা ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সী। পাশাপাশি সাংগঠনিক স্তরে কাউন্সিলরদের মধ্যেও দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দলীয় কর্মী সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে ৫০ হাজার ভোটে জয়ের লক্ষ্যও বেঁধে দিয়েছেন।