তৃণমূলের ৩ সংখ্যালঘু চ্যালেঞ্জএবারের নির্বাচনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাতে চলেছে তিন সংখ্যালঘু দল। তৃণমূলের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ISF, মিম এবং হুমায়ুন কবীরের JUP। এছাড়া, কংগ্রেস, সিপিএম তো রয়েইছে। অন্যদিকে, হিন্দু ভোট টানতে আগ্রাসী বিজেপি। ফলে সংখ্যালঘু ভোট অটুট রাখাই এখন তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কোন কোন আসনে তৃণমূলের ভোট কেটে হিসেব ঘুরিয়ে দিতে পারে সংখ্যালঘু দলগুলি?
প্রথম চ্যালেঞ্জ ISF: ভাঙরের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দল ISF। গত পাঁচ বছরে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে। এবারেও সিপিএমের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন লড়তে পারে ISF, এমনটাই জল্পনা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে নওশাদের। ISF ৫০টি আসনে তাদের প্রার্থী নিয়ে লড়াই করার প্রস্তাব দিয়েছে। তা যদি হয় তবে সিপিএম-ISF তৃণমূলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হুমায়ুন কবীরের JUP: তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। মুর্শিদাবাদে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাঁর প্রচুর সমর্থককে মাঠ ভরাতে দেখা যায়। মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু আসনের ভোট কাটতে পারেন হুমায়ুন কবীর। তারা ক'টা আসনে জিতবে তার থেকেও বড় কথা তৃণমূলের কত ভোট কাটবে JUP। মুর্শিদাবাদের একগুচ্ছ আসনে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ AIMIM: আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম একুশের নির্বাচন থেকেই মাথাচারা দিয়েছে। অল্পবিস্তর ভোট কাটছে মিমও। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে AIMIM। বিহার সীমান্ত কিষাণগঞ্জে মিমের ফল ভালোই। সেক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ভোটে ভাগ বসাতে চলেছে AIMIMও।
অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নুর কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে এবং গনি খানের পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কংগ্রেস মালদা উত্তরের বিধানসভা আসনে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে পারে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা সময়ই বলে দেবে। এখন অপেক্ষা নির্বাচনের। তার আগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সিপিএম থেকে প্রতীক-উর-রহমানকে তৃণমূলে টেনে এনেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যালঘু ভোটে জিততে কোনও হাই-ভোল্টেজ আসনেই তাঁকে টিকিট দেওয়া হতে পারে এমনটাই জল্পনা।