মীনাক্ষী মজুমদার এবং কলতান দাশগুপ্তএকটা সময় নাস্তিকতার কড়া লাইনে হেঁটেছিল সিপিআইএম। তবে সেই পথ থেকে অনেক দিন সরে এসেছে এই বাম দলটি। এখন মাঝে মধ্যেই সিপিআইএম নেতাদের দেখা যায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। আর ছাব্বিশের ভোটের আগে আরও একবার তেমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা বাংলা।
উত্তর পাড়ার সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। তিনি রবিবার প্রচার করছিলেন উত্তরপাড়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে তিনি মাড়োয়ারিদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি সৌজন্যে বিনিময় করেন। অনুষ্ঠান কমিটির পক্ষ থেকে স্বাগতও জানান হয়। এই সময় ঘৃতাহুতিও দেন মীনাক্ষী বলে খবর রটেছে।
আর শুধু মীনাক্ষী নয়, পানিহাটি বিধানসভার সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও একটি মন্দিরে পুজো দিয়েছেন বলে জল্পনা। তিনি নাকি পুজো দিয়েই শুরু করেছেন প্রচার।
আর মীনাক্ষী এবং কলতানের মতো সিপিআইএম-এর যুব মুখেদের এহেন পুজো করতে দেখে স্বভাবতই কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যেই সিপিআইএম একটা সময় গর্বের সঙ্গে ধর্মের সঙ্গে আফিমের তুলনা করত, তারা কীভাবে পুজোআচ্চা করে?
আর এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সামনে মুখ খুলেছেন কলতান। তিনি বলেন, 'একটা এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে প্রচার করার সময় একটি মন্দির পড়ে। পুরোহিতের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় হয়। এর বেশি কিছু হয়নি। এর বাইরে যা শোনা যাচ্ছে, গোটাটাই রটনা।'
পাশাপাশি তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিকাশ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রচারে বেরিয়ে দারুণ সাড়া মিলছে। সকলে তাঁর সামনে সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। মানুষ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।
সেই সঙ্গে তিনি আর জি কর নির্যাতিতার বিষয়টা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর কথায়, 'আমরা কে সিপিএম, কে তৃণমূল দেখে গাড়ি আটকাইনি বা রাত দখল করিনি। আমরা চাই তাঁর বিচার হোক। এমন যাঁর সঙ্গেই ঘটবে, তাঁর জন্যই পথে থাকব।'
যদিও তিনি পরিশেষে আরও একবার পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে ধর্ম নিয়ে তাঁরা বেশি মাতামাতিতে বিশ্বাসী নন।
নতুন কিছু নয়...
এর আগেও সিপিআইএম নেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্য নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে নামসংকীর্তনে যোগ দিয়েছেন। এমনকী ভোটপ্রচারে বেরিয়ে বাম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমকে (বর্তমান রাজ্য সম্পাদক) রায়গঞ্জে সংকীর্তনের আসরে দেখা গিয়েছিল। আর সেই সময়ও কম জলঘোলা হয়নি। আর আজ আরও একবার সেই বিষয়টা নিয়েই তুঙ্গে উঠল আলোচনা।