ছাব্বিশে ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেনে BJP-TMC, রিল পিছু ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অফার

কোভিড-পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও বাংলার শহরাঞ্চলে ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতি দ্রুত বেড়েছে। সেই শক্তিকেই এবার ভোটযুদ্ধে কাজে লাগাতে চাইছে দলগুলি। তবে স্বচ্ছতার অভাব ও নৈতিক প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কও সমানতালে বাড়ছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ডিজিটাল প্রচারের এই অদৃশ্য লড়াই ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Advertisement
ছাব্বিশে ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেনে BJP-TMC,  রিল পিছু ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অফারগ্রাফিক্স
হাইলাইটস
  • বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া দুনিয়ায় শুরু হয়েছে নীরব কিন্তু তীব্র লড়াই।
  • রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে এখন বড় ভরসা হয়ে উঠছেন ইনফ্লুয়েন্সাররা।

বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া দুনিয়ায় শুরু হয়েছে নীরব কিন্তু তীব্র লড়াই। রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে এখন বড় ভরসা হয়ে উঠছেন ইনফ্লুয়েন্সাররা। অভিযোগ, একটি রিলের জন্য প্রস্তাবিত পারিশ্রমিক পৌঁছে যাচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

একটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে কলকাতার কনটেন্ট নির্মাতা শালিনী মুখোপাধ্যায় বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মিলিয়ে ৪৩ হাজারের বেশি অনুসারী, একটি ইমেল পান। সেখানে দাবি করা হয়, বিজেপির প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংস্থা রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পেইড কোলাবরেশন খুঁজছে। শর্ত ছিল, ইনস্টাগ্রামে অন্তত ২০ হাজার ফলোয়ার এবং গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার ভিউ। প্রতিটি রিলের জন্য প্রস্তাব ছিল ২০ হাজার টাকা। শালিনী সেই ইমেলের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আনেন এবং জানান, তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি একা নন। একাধিক ইনফ্লুয়েন্সার জানিয়েছেন, শুধু বিজেপির প্রতিনিধিত্বকারী দাবিদার সংস্থাই নয়, শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকেও নাকি একই ধরনের প্রস্তাব এসেছে।

লাইফস্টাইল ভ্লগার কণিনিকা দে, যাঁকে ম্যাক্রো ইনফ্লুয়েন্সার ধরা হয়, সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'দুই পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রতি রিলের জন্য পারিশ্রমিক প্রায় ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলা হয়েছিল।' তবে তিনিও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান। তাঁর কথায়, 'ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত ব্যবসার সঙ্গে মেশাতে চান না।'

সোশ্যাল মিডিয়া জগতে ইনফ্লুয়েন্সারদের সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়-
ন্যানো (১০ হাজারের কম ফলোয়ার),
মাইক্রো (১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ),
ম্যাক্রো (১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ),
এবং মেগা (১০ লক্ষের বেশি)।

রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের বাজেট ও প্রচারের লক্ষ্য অনুযায়ী এই বিভিন্ন স্তরের ইনফ্লুয়েন্সারদের বেছে নেয়। ন্যানো ও মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সাররা স্থানীয় স্তরে প্রভাব ফেলতে সক্ষম, আর ম্যাক্রো ও মেগা ইনফ্লুয়েন্সাররা বৃহত্তর দর্শকের কাছে দ্রুত বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন।

এদিকে বিজেপির রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক সপ্তর্ষি চৌধুরী দাবি করেছেন, দল কোনও বাইরের সংস্থাকে ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগের দায়িত্ব দেয়নি এবং এ ধরনের ইমেল পাঠানোর অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

Advertisement

তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁরা ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ঠিকই, তবে তা অর্থের বিনিময়ে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি। তাঁর বক্তব্য, 'বাংলার স্বার্থে লড়াইয়ে সামিল হতে চাইলে সকলকেই স্বাগত।'

অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র বলেন, তাঁদের কাছে এমন আর্থিক সামর্থ্য নেই। তাঁর কথায়, 'সব আসনে প্রার্থী দিচ্ছি, দলীয় খরচ সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগের মতো বিপুল অর্থ আমাদের নেই।'

কোভিড-পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও বাংলার শহরাঞ্চলে ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতি দ্রুত বেড়েছে। সেই শক্তিকেই এবার ভোটযুদ্ধে কাজে লাগাতে চাইছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে স্বচ্ছতার অভাব ও নৈতিক প্রশ্ন নিয়ে বিতর্কও সমানতালে বাড়ছে। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ডিজিটাল প্রচারের এই অদৃশ্য লড়াই ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement