অমিত শাহ।-ফাইল ছবিপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ‘জনগণের চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন অমিত শাহ। নিউটাউনের এক হোটেলে এই চার্জশিট প্রকাশ করে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান।
শাহ দাবি করেন, সারা দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া চললেও পশ্চিমবঙ্গেই তা নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, 'কেরল বা তামিলনাড়ুতে যেখানে কোনও সমস্যা হয়নি, সেখানে বাংলায় কেন সুপ্রিম কোর্টকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করতে হল? এর জবাব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিতে হবে।”
‘জনগণের চার্জশিট’-এ অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শাহর দাবি, অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও এখন একমাত্র পথ পশ্চিমবঙ্গ। তাই এই রাজ্যের নির্বাচন গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাঁর কথায়, 'তৃণমূলের অপশাসন ও অরাজকতার অবসান ঘটাতে কী করা হবে, তাও আমরা ধাপে ধাপে জানাব।'
এদিন তিনি জোরের সঙ্গে দাবি করেন, বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন শাহ। তাঁর মতে, শুভেন্দু রাজ্য জুড়ে ঘুরে তৃণমূল সরকারের 'ব্যর্থতা' মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।
ভোটকে ‘ভয়মুক্তির লড়াই’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন শাহ। তিনি বলেন, 'এই ভোট প্রাণনাশের ভয়, সম্পত্তি হারানোর ভয়, জনবিন্যাস বদলের ভয় এবং রোজগার হারানোর ভয় থেকে মুক্তির ভোট।'
রাজনৈতিক দিক থেকে আরও বড় বার্তা দিয়ে শাহ বলেন, 'অনেক বছর পর অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ, অর্থাৎ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় একই দলের সরকার গঠিত হতে চলেছে।' এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘ভিক্টিম কার্ড’-এর রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটের সময় সহানুভূতি আদায়ের জন্য অসুস্থতার কথা বলা হয়, তবে এবার তা কাজ করবে না।
অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সুরক্ষা প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, 'এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, রাজ্য সরকার কী করছে? সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিলেই বিএসএফ কাজ করতে পারবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ১৫ দিনের মধ্যেই সেই ব্যবস্থা করা হবে।'
এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নারীদের নিরাপত্তা, সন্দেশখালি, হাঁসখালি, কামদুনি-সহ একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, 'বাংলার প্রশাসনের অনেক অফিসারই এখন তৃণমূলের ক্যাডারে পরিণত হয়েছেন।'