বিড়ালের ব্যবসাCat Feeding Service: চিনের শাংহাই শহরে এক যুবকের অদ্ভুত ব্যবসার খবর এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায়। চীনা নববর্ষের ছুটির সময় মানুষ যখন ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন, তখন তাদের বাড়িতে থাকা পোষা বিড়ালের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তিনি। আর সেই কাজ করেই মাত্র প্রায় ২০ দিনে প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ লাখ টাকা আয় করেছেন ওই যুবক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবকের নাম হুয়ান। তিনি শাংহাইয়ের জিয়াডিং জেলায় থাকেন। চীনা নববর্ষের ছুটির সময় অনেক পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্য শহরে বা গ্রামে চলে যান। কিন্তু পোষা বিড়ালকে সঙ্গে নেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। সেই সুযোগকেই ব্যবসায়িকভাবে কাজে লাগিয়েছেন হুয়ান।
তার কাজ মূলত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে গিয়ে বিড়ালকে খাবার দেওয়া, পানির পাত্র বদলে দেওয়া এবং লিটার বক্স পরিষ্কার করা। প্রয়োজন হলে তিনি বিড়ালকে ওষুধ খাওয়ান, এমনকি নখ কাটার মতো কাজও করেন। অনেক সময় গ্রাহকের বিশেষ অনুরোধ থাকলে অতিরিক্ত টাকা না নিয়েও তিনি এই পরিষেবা দিয়ে থাকেন।
এই পরিষেবার জন্য শাংহাইয়ের জিয়াডিং জেলায় তিনি প্রতি বাড়ি ভিজিটে ৬০ থেকে ৮০ ইউয়ান নেন, যা প্রায় ৯ থেকে ১২ মার্কিন ডলারের সমান। শহরের অন্যান্য এলাকায় এই চার্জ প্রায় ১০০ ইউয়ান পর্যন্ত হয়। আবার দূরত্ব বেশি হলে বা বাড়িতে একাধিক বিড়াল থাকলে সেই ফি ২০০ ইউয়ান পর্যন্তও হতে পারে।
এই কাজ এখন আর একা করছেন না হুয়ান। তার সঙ্গে আরও চারজনের একটি ছোট দল রয়েছে। চীনা নববর্ষের সময় তারা সবাই শাংহাইয়ে থেকেই একের পর এক বাড়িতে গিয়ে পরিষেবা দেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ দিনের মধ্যে তারা প্রায় ২০০০টি বাড়িতে পরিষেবা দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০০০টি ভিজিট নিজেই করেছেন হুয়ান।
গত বছর চিনা নববর্ষের সময় প্রায় ২৭০টি পরিবার তাদের পরিষেবা নিয়েছিল। এবছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২০ পরিবারে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি বছরে শুধু বিড়ালকে খাবার দেওয়ার পরিষেবা থেকেই প্রায় ১,৬০,০০০ ইউয়ান আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যা প্রায় ২৩,০০০ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ লাখ টাকার সমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের বড় শহরগুলোতে এখন পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়া একটি দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যবসা। বিশেষ করে মানুষ যখন ছুটিতে বাইরে যান, তখন বাড়িতে গিয়ে পোষা প্রাণীর দেখাশোনা করার পরিষেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।