সন্দেহভাজন ব্যক্তি নব্য-নাৎসি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল।রাশিয়ার উফা শহরে বিদেশি ছাত্রদের হোস্টেলে হামলা। রবিবার এক কিশোরের বিরুদ্ধে স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে ভারতীয় পড়ুয়াদের উপর ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বয়স মাত্র ১৫ বছর। তদন্তকারীদের দাবি, সে উগ্র ডানপন্থী নব-নাৎসি(Neo Nazi) মতাদর্শে প্রভাবিত ছিল। ঘটনায় জখম হয়েছেন চার ভারতীয় ছাত্র।
রবিবারের এই হামলার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং বিদেশি ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আচমকা ছাত্রাবাসে ঢুকে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয় হস্টেলের ভিতরে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়, তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রুশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার পরে ছাত্রাবাসের দেওয়ালে রক্ত দিয়ে একটি স্বস্তিক চিহ্ন আঁকার অভিযোগ উঠেছে ওই কিশোরের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের অনুমান, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত একটি নিষিদ্ধ নব-নাৎসি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। হামলার সময় সে উগ্র স্লোগানও দিচ্ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা করলে সে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি আত্মক্ষতি করারও চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে রুশ প্রশাসন।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। মস্কোয় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহত ছাত্রদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশে পাঠরত ভারতীয় মেডিক্যাল ছাত্রদের সংগঠনও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, রাশিয়ায় পড়তে যাওয়া ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক স্তরে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
নব-নাৎসি কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মতাদর্শ মূলত জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নাৎসিবাদেরই নতুন সংস্করণ। বলা ভাল, সেটাই পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা। এই মতাদর্শের মূলেই ঘৃণা, বর্ণবাদ এবং হিংসা। সাম্প্রতিক ঘটনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও এই ধরনের উগ্র মতাদর্শ বিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে।
উফার এই হামলার ঘটনা বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।