Trump Tariff: 'PM মোদী আমার খুব ভাল বন্ধু...' বলেই ভারতের উপর ট্যারিফ চাপিয়ে দিলেন ট্রাম্প

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে, SBI-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ওপর সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। ভারতীয় পণ্যের রফতানি ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ কমতে পারে, তবে নির্মাণ ও পরিষেবা খাতের প্রসারের কারণে ক্ষতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

Advertisement
'PM মোদী আমার খুব ভাল বন্ধু...' বলেই ভারতের উপর ট্যারিফ চাপিয়ে দিলেন ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
হাইলাইটস
  • ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ ট্যারিফ, কারণ ব্যাখ্যা করলেন ট্রাম্প
  • ভারতের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
  • কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ভারত, চিন, কানাডা, মেক্সিকো, পাকিস্তান এবং জাপানের মতো দেশগুলির ওপর 'ডিসকাউন্টেড রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ' (Reciprocal Tariff) নামের এই শুল্ক প্রয়োগ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি 'আমেরিকার মুক্তি দিবস', যার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা হয়েছে।

ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ ট্যারিফ, কারণ ব্যাখ্যা করলেন ট্রাম্প

নতুন ট্যারিফ নীতির অধীনে ভারতকে ২৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিতে হবে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জাপানের শেয়ারবাজার সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে, এবং বিশ্লেষকদের মতে চিনের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতের ওপর এই ট্যারিফ আরোপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমার খুব ভালো বন্ধু। সম্প্রতি তিনি আমেরিকা সফরেও এসেছিলেন। তবে আমি তাঁকে স্পষ্ট জানিয়েছি, ভারত আমাদের সঙ্গে সুবিচার করছে না। ভারত আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৫২% ট্যারিফ আরোপ করে, তাই আমরা তার অর্ধেক, অর্থাৎ ২৬% শুল্ক আরোপ করছি।'

ভারতের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে, SBI-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ওপর সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। ভারতীয় পণ্যের রফতানি ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ কমতে পারে, তবে নির্মাণ ও পরিষেবা খাতের প্রসারের কারণে ক্ষতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া, ভারত বর্তমানে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য বাজারে রফতানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাণিজ্যিক রুট তৈরি করছে। চিনের মতো দেশও মার্কিন পণ্যের পরিবর্তে ভারত থেকে বেশি পণ্য আমদানি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা ভারতের জন্য ইতিবাচক দিক হতে পারে।

কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে টেক্সটাইল, জুয়েলারি, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং কেমিক্যাল শিল্প। বিশেষ করে, ভারতের টেক্সটাইল খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল পণ্য রফতানি করেছে, যার মধ্যে ২৮% মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। অর্থাৎ, আমেরিকার অংশীদারিত্ব প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৫,৬০০ কোটি টাকা)। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মার্কিন বাজারে ভারতের টেক্সটাইল রফতানির পরিমাণ ছিল ২১%, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ২৯%-এ পৌঁছেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির ফলে এই বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।

Advertisement

ভারত-মার্কিন ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি কি প্রভাবিত হবে?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাম্প্রতিক আমেরিকা সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির চুক্তি করেছিলেন। এরপর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরাও ভারতে এসেছিলেন এবং তিন দিনব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ভারত ও আমেকিরা মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে এবং ভারত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

ভারতের সম্ভাব্য পদক্ষেপ কী হতে পারে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত নিম্নলিখিত কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে:

বিকল্প বাজার খুঁজে বের করা: ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

আমেরিকায় লবিং করা: আমেরিকার বড় বড় কোম্পানিগুলিকে বোঝানো, যারা ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

বিকল্প কর ব্যবস্থা চালু করা: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য করছাড় ও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা, যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে টিকে থাকতে পারে।

POST A COMMENT
Advertisement