দেশের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে। India Oil Imports: ইরান ছাড়া ভারত আর কোথা থেকে তেল ও গ্যাস পায়? ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে। ফলে কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে সেই আমদানিতে বহুবার বাধা এসেছে।
বর্তমানে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসকে বহুমুখী করে তুলেছে। অর্থাৎ, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারীর তালিকায় উঠে এসেছে।
এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত; এই দেশগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। বিশেষ করে ইরাক বহু বছর ধরেই ভারতের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।
শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত।
প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই রকম বহুমুখী কৌশল নিয়েছে ভারত। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির জন্য কাতার দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের প্রধান অংশীদার। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও LNG আমদানি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানির এই বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। কোনও একটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে, অন্য উৎস থেকে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়। তবে এর মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট; মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা এখনও সম্ভব হয়নি।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনও রকম অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে।