ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ডিলইরানের এনার্জি ঘাঁটিতে আপাতত অ্যাটাক করবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তিনি নিজের কড়া আল্টিমেটাম থেকে সরে এসেছেন। আর এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা থামাতে ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তি করার ব্যাপারে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
যদিও ট্রাম্পের এই প্ল্যান পছন্দ হয়নি ইজরায়েলের। সেই দেশের ৩ সিনিয়র আধিকারিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা এই প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে সন্দিহান। এই আধিকারিকদের মতে, তেহরান নতুন করে আলোচনায় বসতে পারে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল শর্তগুলি ইরানের পক্ষ মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
মাথায় রাখতে হবে, এই যুদ্ধ শুরুর আগেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তারপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়।
এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুধু ইরানেই অন্তত ১,৫০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে আরও অনেকের মৃত্যু হতে পারে বলে খবর।
এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে প্রথম থেকেই তেহরানকে দায়ী করে এসেছে দুইপক্ষ। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণু কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের জন্যই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ইজরায়েলের ওই কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য নতুন কোনও আলোচনায় আমেরিকা আবারও ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে পারে। আর এই নিয়ে শুরু হতে পারে সমস্যা।
যদিও এত মতানৈক্য থাকার পরও ট্রাম্প কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সোমবার এক সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, আমেরিকার ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে খুবই ভালো এবং ফলদায়ক আলোচনা হয়েছে।' যদিও বিষয়টা নিয়ে সন্দিহান ইজরায়েল।
এই সপ্তাহেই বৈঠক হতে পারে
যতদূর খবর, এই সপ্তাহেই বৈঠকে বসতে পারে ইজরায়েল এবং ইরান। এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আর এই আলোচনা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর। মধ্যস্ততাকারী হিসেবে পাকিস্তানের উপরই ভরসা রাখছে আমেরিকা।
হরমুজ কি খুলবে?
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে এই সমুদ্র পথ থেকে তেল, গ্যাস নিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দাম বাড়ছে তেলের। এমনকী গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে সকলেই চাইছে যাতে হরমুজ খুলে যায়। বন্ধ হয় যুদ্ধ।