তেলের দামে ক্র্যাশঅবশেষে কয়েক দিনের জন্য হলেও বড় স্বস্তি পেয়েছে বিশ্ব। কারণ, ইরানের কোনও এনার্জি সাইটে ৫ দিন হামলা হবে না বলে ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি হরমুজ খোলার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। যদিও পরে সুর নরম করেন ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন ঘোষণার পর আমেরিকার এবং এশিয়ার মার্কেটে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
ট্রাম্পের ৫ দিনের 'নো অ্যাটাক অন ইরান' ঘোষণার পর ১০ শতাংশের মতো দাম কমেছে অপরিশোধিত তেলের। যার ফলে স্বস্তি পেয়েছে গোটা বিশ্ব। যদিও মঙ্গলবার ইরান ট্রাম্পের দাবি নিয়ে নিজেদের পাল্টা মতামত দিয়েছে। এর ফলে আবার নতুন করে দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন ট্রাম্প হঠাৎ করে এমনটা বললেন?
রবিবার পর্যন্ত ইরান নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ইরানকে হরমুজ খোলার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন।
এই সময় হুমকির সুরে তিনি জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ খুলতে হবে। নইলে আমেরিকা ইরানের এনার্জি সাইটগুলিতে আক্রমণ করবে। যদিও তারপর ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন।
কেন তিনি অবস্থান বদলালেন, এই বিষয়টাও খোলসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। তাই আক্রমণ আপাতত বন্ধ করা হল।
উঠতে থাকে স্টক মার্কেট
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই সেনসেক্স এবং নিফটি লাফ দেয়। এছাড়া গতকাল রাতের মধ্যেই তেলের দাম পড়ে যায় ১০ শতাংশ। ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নীচে নেমে যায় দাম।
মাথায় রাখতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে চলতি বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে তেলের দাম। আর সেই দামই এবার অনেকটা কমল।
যদিও ট্রাম্পের কথায় তেলের দাম কমলেও উল্টো গাইছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এটা একটি ফেক নিউজ। কিন্তু এরপরও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০১ ডলার প্রতি ব্যারেল এবং ডব্লুটিআই ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার রয়েছে।
আশার আলো দেখছে বিশ্ব
মাখায় রাখতে হবে, খুব জটিল সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ব্রিটেনের মতো দেশে ইতিমধ্যেই বেড়েছে তেলের দাম। এমনকী ভারতেও এলপিজি সঙ্কট তৈরি হয়। যার ফলে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যদিও তেলের দাম কমায় এক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।