অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধিগত এক মাস ধরে ইরান বনাম আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালী। আর এই সমুদ্র পথ থেকেই গোটা পৃথিবীর দৈনিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস যায়। তাই হরমুজ বন্ধ থাকায় লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সঙ্কটের মুখে গোটা বিশ্ব। এখন সবার মনেই প্রশ্ন, কবে থামবে এই যুদ্ধ? কারণ, এই যুদ্ধ না থামলে যে আদতে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারে। চাপে পড়তে পারে সারা পৃথিবীর অর্থনীতি।
আর এমন পরিস্থিতিতে একটা খারাপ খবর দিয়েছে ব্রোকারেজ ফার্ম ম্যাকুরি। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ যদি জুন পর্যন্ত চলে, এতদিন যদি হরমুজ বন্ধ থাকে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। আর এমনটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৪০ শতাংশ।
এই ব্রোকারেজ ফার্মের মতে, এই যুদ্ধ যদি চলতি আর্থিক বর্ষের সেকেন্ড কোয়ার্টারে পৌঁছে যায়, তাহলে আরও চাপ বাড়বে। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারে তেলের দাম। যদিও ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, সংস্থা যুদ্ধ থামার বিষয়ে বেশি ইতিবাচক। তারা মনে করছে চলতি মাসের শেষেই ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যুদ্ধ বিরতির।
মাথায় রাখতে হবে, ইরান যুদ্ধের জন্য ইতিমধ্যেই বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সারা বিশ্বেই তেলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবার সতর্ক করল এই ব্রোকারেজ ফার্ম।
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার পেরল
২৭ মার্চ, চিনের দুই জাহাজকে হরমুজ পেরতে দেওয়া হয়নি। তারপরই বাড়তে শুরু করেছে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম। মে ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ২.৮২ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এশিয়ার অনেকটা তেল আসে। আর এই প্রণালীর একটা বড় অংশ কন্ট্রোল করে ইরান। তারাই এখান দিয়ে জাহাজ যেতে দিচ্ছে না। যার ফলে দাম বাড়ছে তেলের।
ট্রাম্প বন্ধ রেখেছেন আক্রমণ
এই সময় অবশ্য আক্রমণে ঢিলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ১০ দিনের জন্য ইরানের এনার্জি সেন্টারে আক্রমণ হবে না বলে কথা দিয়েছেন। এই সময় কথা চলছে দুই দেশের মধ্যে। আর সেই দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। এখন দেখার এরপর যুদ্ধ থেমে যায় কি না।