কলোম্বিয়ার মিলিটারি প্লেন ক্র্যাশকলম্বিয়ার সুদূর অ্যামাজন অঞ্চল থেকে ১১০ জন সেনা নিয়ে উড়ান দিয়েছিল একটি সামরিক বিমান। আর টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছেন, লকহিড মার্টিন হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানে হয় এই দুর্ঘটনা। সোমবার পেরু সীমানায়, পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে এই ক্র্যাশ হয়েছে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় ব্লু রেডিও জানিয়েছে, এই মিলিটারি প্লেনে সওয়ার ছিলেন ১১০ জন সেনা। প্লেনটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শহর থেকে মোটামুটি ৩ কিমি দূরে ভেঙে পড়েছে।
রয়টার্স সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনার পর মোটামুটি ৫৭ জন সেনাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের এই বিমানের ধ্বংসাবশেষের আশপাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর।
এই দুর্ঘটনার কিছু ভিডিও সামনে এনেছে স্থানীয় মিডিয়া। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছে।
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
সেনার বিমানে এই ধরনের দুর্ঘটনা যে কোনও দেশকে নাড়িয়ে দিতে পারে। আর তেমনটা ঘটেছে কলম্বিয়ার সঙ্গেও। সেই দেশের রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেট্রো এই মিলিটারি প্লেন ক্র্যাশের পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, 'আমি আশা করি এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।'
পেট্রো এই দুর্ঘটনার পর কলোম্বিয়ার সামরিক ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে দেরির বিষয়টিকে সামনে অনেছেন। তিনি লেখেন, 'আমি আর দেরি সহ্য করব না। আমাদের দেশের যুবকদের জীবন বাজি রয়েছে। যদি সিভিল এবং মিলিটারি আধিকারিকরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করতে পারেন, তাহলে তাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হবে।'
মাথায় রাখতে হবে, হারকিউলিস সি ১৩০ বিমানটি খুবই পুরনো। এটি ১৯৫০ সালে সামনে আসে। আর সারা পৃথিবীতেই একটা সময় এর খুবই ব্যবহার ছিল। সেই মতো ১৯৬০-এর দশকে এটিকে কলম্বিয়ার সেনার হাতিয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারপর থেকে এখনও সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে এই বিমান।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই বিমানের মাঝে মধ্যেই আপগ্রেড আসে। কিন্তু যন্ত্রের বয়স তো বাড়ছে। সেই কারণেই বাড়ছে বিপদ।