কলম্বিয়ায় বিমান দুর্ঘটনাপেরু সীমান্তে কলম্বিয়ার সামরিক বিমানে ক্র্যাশ। তাতে যাত্রা করছিলেন ১১০ জন সেনা। আর মঙ্গলবার সকালে তাঁদের মধ্যে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর মিলছে।
যতদূর জানা যাচ্ছে, কলম্বিয়ার সুদূর অ্যামাজন অঞ্চল থেকে ১১০ জন সেনাকে নিয়ে টেক অফ করেছিল বিমানটি। কিন্তু ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপত্তি। প্লেনটি ভেঙে পড়ে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানা গিয়েছে, পেরু সীমানায় হয়েছে এই ক্র্যাশ। এতে সওয়ার ছিলেন ১১০ জন। আর লকহিড মার্টিন হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে ব্লু রেডিও বিশদে জানিয়েছে। তাদের খবর অনুযায়ী, এই সামরিক বিমানে যাত্রা করছিলেন ১১০ জন সেনা। আর প্লেনটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শহর থেকে মাত্র ৩ কিমি দূরে ভেঙে পড়েছে।
রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটামুটি ৫৭ জন সেনাকে জীবিত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বিমানের ধ্বংসাবশেষের আশপাশ থেকেই উদ্ধার করা হয়।
যদিও এখন আবার খবর মিলবে যে এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬ জন। আর তাতেই বোঝা যায় যে এই দুর্ঘটনাটি ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর ছিল।
মাথায় রাখতে হবে, এই দুর্ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। সেই সব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছে।
কী বলছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট?
সেনার বিমানে এই ধরনের দুর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আর কলম্বিয়াও এই বিষয়টা নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেই দেশের রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেট্রো এই মিলিটারি প্লেন ক্র্যাশের পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'আমি আশা করি, এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার জন্য কারও মৃত্যু হয়নি। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।' যদিও প্রেসিডেন্ট যতই উদ্বিগ্ন হোক না কেন, ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনায় অনেকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
পেট্রোর মতে, এই দুর্ঘটনার পর কলম্বিয়ার সামরিক ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণে দেরি রয়েছে। তিনি লেখেন, 'আমি আর দেরি সহ্য করব না। আমাদের দেশের যুবকদের জীবন বাজি রয়েছে। যদি সিভিল এবং মিলিটারি আধিকারিকরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা না করতে পারেন, তাহলে তাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হবে।'
মাথায় রাখতে হবে, হারকিউলিস সি ১৩০ বিমানটি খুবই পুরনো। এটি ১৯৫০ সালে সামনে আসে। আর সারা পৃথিবীতেই একটা সময় এর খুবই ব্যবহার ছিল। সেই মতো ১৯৬০-এর দশকে এই বিমানকে কলম্বিয়ার সেনায় এটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারপর থেকে এখনও সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে এই যুদ্ধ বিমান।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই যুদ্ধ বিমানের মাঝে মধ্যেই আপগ্রেড আসে। কিন্তু বিমানের যন্ত্রের বয়স তো বাড়ছে। সেই কারণেই বাড়ছে বিপদ।