দিল্লি-বেজিং সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি মনে করেন, ভারত-চিনের পরস্পরের পার্টনার বা সহযোগী হওয়া উচিত। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে এমনটা প্রকাশিত হয়েছে। কূটনীতিবিদরা বলছেন, তাঁর এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে কি দুই দেশের সম্পর্ক পজিটিভ দিকে ঘুরবে? তুঙ্গে জল্পনা।
১ এপ্রিল, ভারত ও চিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূরণ হয়েছে। বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা বার্তাও বিনিময় করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
শি জিনপিং যা বলেন
শি জিনপিং এদিন ভারত ও চিনকে গ্লোবাল সাউথের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশকে কাজ করতে হবে। সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা ও স্ট্র্যাটেজিক রিলেশন দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও বলেন, স্থায়ী ও প্রেডিক্টেবল সম্পর্ক থাকলে দুই দেশ এবং গোটা বিশ্বের জন্য তা ভাল। ভারত-চিন সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে জোর দেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ভারত ও চিনের ঐতিহাসিক প্রভাব এবং বিশ্বশান্তির জন্য যৌথ উদ্যোগের কথা বলেন। তিনি জানান, আধুনিক বিশ্বে দুই দেশের মধ্যে ভাল দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
কূটনীতিবিদরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশগুলির মধ্যে ভারত ও চিনের শক্তি অন্যতম। ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে তা সত্যিই প্রযুক্তি ও আর্থিক অগ্রগতি বাড়িয়ে তুলবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ক কোনদিকে এগোয় এখন সেটাই দেখার।
সম্প্রতি চিন গিয়েছিলেন ইউনূস
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চিন সফরে যান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তাঁর সেই সফর ঘিরেও বিশ্ব রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা শুরু হয়। ইউনূসের দেশে ফেরার পরপরই চিনের এই মন্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।