Dollar vs Yuan: ডলারের দাপট শেষ করবে চিনের ইউয়ান? বড় চ্যালেঞ্জ শি জিনপিংয়ের

ডলারের দাপট অনেক হল। এবার তাকে সরিয়ে একাধিপত্য করতে চাইছে চিন। রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেদেশের ইউয়ানকে 'শক্তিশালী মুদ্রা' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement
ডলারের দাপট শেষ করবে চিনের ইউয়ান? বড় চ্যালেঞ্জ শি জিনপিংয়ের ইউয়ানকে 'শক্তিশালী মুদ্রা' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
হাইলাইটস
  • রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
  • ইউয়ানকে 'শক্তিশালী মুদ্রা' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
  • এটা যে ডলারের প্রতি চিনের সরাসরি চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।

ডলারের দাপট অনেক হল। এবার তাকে সরিয়ে একাধিপত্য করতে চাইছে চিন। রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সেদেশের ইউয়ানকে 'শক্তিশালী মুদ্রা' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। জিনপিং বলেছেন, ইউয়ানকে এতটাই শক্তিশালী করতে হবে, যাতে অন্যান্য দেশ এটিকে 'আন্তর্জাতিক রিজার্ভ' হিসেবে জমা করতে শুরু করে। অর্থাৎ, ঠিক ডলারেরই মতো। এটা যে ডলারের প্রতি চিনের সরাসরি চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মার্কিন ডলারই বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ঋণ পরিশোধ; প্রায় সব ক্ষেত্রেই ডলারের দাপট। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার বা IMF-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনও বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারের প্রায় ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশই ডলারে রাখা হয়। সেই বাস্তবতাতেই বড় প্রশ্ন তুললেন শি জিনপিং।

শনিবার শাসক কমিউনিস্ট পার্টির তাত্ত্বিক পত্রিকা ‘কিউশি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শি জিনপিং বলেন, চিনকে একটি 'মজবুত মুদ্রা” দাঁড় করাতে হবে। যে মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বড় আকারে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যা বৈশ্বিক রিজার্ভের মর্যাদা পেতে পারে। যদিও ওই লেখায় সরাসরি ডলারের নাম করেননি তিনি, তবে অর্থনৈতিক মহলের মতে, বক্তব্যের নিশানা স্পষ্ট।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চিন ইতিমধ্যেই ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর পথে হাঁটছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর চিনের প্রায় ৬.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে ইউয়ানে। অর্থাৎ, ধীরে হলেও মুদ্রা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

হংকংয়ের সংবাদপত্র ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শি জিনপিং স্বীকার করেছেন যে ব্যাঙ্কিং সম্পদ, বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের আকারে চিন বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলির একটি হলেও, সামগ্রিকভাবে দেশটি 'বড় হলেও এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়”। তাঁর মতে, একটি প্রকৃত আর্থিক শক্তিধর দেশে পরিণত হওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

Advertisement

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসছে CIPS বনাম SWIFT বিতর্ক। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত SWIFT নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে CIPS বা ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাঙ্ক পেমেন্ট সিস্টেমকে এগিয়ে দিচ্ছে চিন। রাশিয়া-চিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় বা কারেন্সি সুয়াপ চুক্তিও করেছে বেজিং।

অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্কগুলির বিশ্লেষণ বলছে, ইউয়ান এখনও তার দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃত মূল্যের তুলনায় দুর্বল। গোল্ডম্যান স্যাক্সের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউয়ান ডলারের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম দামে লেনদেন হচ্ছে। ফলে চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক শক্তিশালী মুদ্রা চাইলেও, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক।

ডলারের আধিপত্য ভাঙার প্রসঙ্গ উঠছে BRICS জোটেও। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ দশ সদস্যের এই জোটে যৌথ BRICS মুদ্রা এবং বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম ‘BRICS Pay’-এর প্রস্তাব আলোচনায়। চলতি বছর ভারতে হতে চলা BRICS শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ডলারের বিরুদ্ধে গেলে কঠোর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থায় এক নতুন শক্তিসংঘাতের সূচনা হয়েছে। ইউয়ান আদৌ ডলারের সিংহাসন কাঁপাতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে শি জিনপিংয়ের বার্তায় বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের আভাস স্পষ্ট।

POST A COMMENT
Advertisement