Md. Yunus in China: চিনের আগে দিল্লি সফর চেয়েছিলেন ইউনূস, ভারত প্রস্তাবে পাত্তাই দেয়নি

চিন সফরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমানে চিন রওনা দেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এখন টানাপোড়েনের আবহ। তারই মধ্যে ইউনূসের এই সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে আসলে ভারতকেই বার্তা দিতে চাইছেন ইউনূস। 

Advertisement
চিনের আগে দিল্লি সফর চেয়েছিলেন ইউনূস, ভারত প্রস্তাবে পাত্তাই দেয়নি

চিন সফরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমানে চিন রওনা দেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে কিছুটা শীতল। তারই মধ্যে ইউনূসের এই সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে আসলে ভারতকেই বার্তা দিতে চাইছেন ইউনূস। 

চিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

মহম্মদ ইউনূসের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। আর তাতেই গন্তব্য চিন। ইউনূসের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশ, বিদ্যুৎ, খনিজ, সড়ক পরিবহন এবং রেল উপদেষ্টা সহ তাঁর প্রেস সচিব। জানা গিয়েছে, ইউনুস চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। 'বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া'তে ভাষণ দেবেন। চিনের বিভিন্ন উচ্চ প্রযুক্তি পার্ক এবং হাসপাতালও পরিদর্শন করবেন। সফরে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ ও সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন।

অর্থনৈতিক চুক্তি ও চিনের অনুদান

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ টলমল। সম্ভবত সেটা সামলানোও এই সফরের অন্য়তম উদ্দেশ্য। চিনের থেকে বিনিয়োগ চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আদায়ের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। তাই নিয়েই আলোচনা হবে। চিন থেকে স্বাস্থ্য খাতে ১৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান আনারও চেষ্টা করা হতে পারে।

বাংলাদেশে এমনিতেই চিনের বেশ প্রভাব 

চিন এমনিতেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী। সেদেশের বহু ব্যবসা, পরিকাঠামো প্রকল্পে সরাসরি চিন প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা করেছে। ইউনূসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেও তা বদলায়নি। প্রায় ১৪টি চিনা সংস্থা বাংলাদেশে ২৩ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এতে ঢাকায় বেজিংয়ের প্রভাব আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য কিছুটা হলেও উদ্বেগজনক। কারণ, চিনের উপস্থিতি বাংলাদেশে  ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পজিশন দুর্বল করতে পারে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে চিনের অংশগ্রহণ বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়বে।

ভারতের বার্তা 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান। মোদী তাঁর বার্তায় ‘পরস্পরের প্রতি সংবেদনশীল মনোভাব’ বজায় রাখার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি কৌশলগত বার্তা, যা ইঙ্গিত দেয় যে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

Advertisement

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলায় ভারতের অসন্তোষ

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৬ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৩ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন এবং ১৫২টি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। ঢাকার এই নিষ্ক্রিয়তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও খারাপ করেছে।

ভারত সরকারের তরফে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবি তোলা হয়েছে। ইউনুসের ভারত সফরের অনুরোধ দিল্লি প্রত্যাখ্যান করায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ঢাকাকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

POST A COMMENT
Advertisement