আয়াতোল্লাহ আমোলি, ডোমাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের মাঝেই ইরানের এক ধর্মীয় নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্ত চাইলেন! দেশের জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত একটি বার্তায় শিয়া ইসলামের বর্ষীয়ান ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আবদুল্লাহ জাভাদি আমোলি আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে কড়া ভাষায় হুমকি দিয়েছেন।
টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে আয়াতোল্লা আমোলি বলেন, 'আমরা এখন একটি বড় পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের অবশ্যই ঐক্য এবং এই জোটবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। সম্পূর্ণরূপে দেশকে রক্ষা করতে হবে।' এরপরই তিনি ইজরায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে হিংসাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ইমাম বলেন, 'অত্যাচারী আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই করো, ট্রাম্পের রক্ত চাই আমার।'
শিয়া ইসলামে আয়াতোল্লা হলেন ধর্মীয় নেতাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি পদ। ইরানে এমন অনেক বর্ষীয়ান রয়েছেন যাঁরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন। তার মধ্যে আয়াতোল্লাহ আমোলির এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে এই প্রথম মুখ খুললেন। বিশ্লেষকদের মতে, এত উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতার প্রকাশ্যে হিংসাত্মক সংঘাতের আহ্বান জানানো খুবই বিরল।
এদিকে, ষষ্ঠ দিনে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। বৃহস্পতিবার ভোরে ইজরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাতারাতি শেল্টার হাউসে চলে যেতে হয়েছে। এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, ইরানে বাড়তে থাকা পরমাণু কর্মসূচি থামাতেই এই হামলা।
আক্রমণের জেরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। এখনও পর্যন্ত এই সংঘাতে ইরানে হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে ইরান এবং ইজরায়েলের বাইরেও। বুধবারই শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ভারত মহাসারে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাদকে ধ্বংস করে মার্কিন টর্পেডো। এতে অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষআ ব্যবস্থা তুরস্কের দিক থেকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ঘাঁটি এবং আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপত্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, ইজরায়েল, ইরান এবং ইরাক সহ কয়েকটি গাল্ফ দেশ তাদের আকাশপথ বন্ধ করে রেখেছে। তবে আটকে পড়া নাগরিকদের দেশে ফেরাতে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। ফেঁসে রয়েছেন কয়েকজন ভারতীয়ও।