বারাকপুরের তৃণমূল কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড করল দল। নিউ ব্যারাকপুরে প্রবীণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। এরই মধ্যে অভিযুক্ত কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দল থেকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে আটকও করেছে পুলিশ। অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিবাদের সময় কাউন্সিলরের লাথিতে ৮১ বছরের বৃদ্ধ তুলসী অধিকারীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, ব্যারাকপুরের মনিরামপুর এলাকার বাসিন্দা তুলসী অধিকারীর বাড়ির সামনে একটি নির্মাণকাজ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেটি অবৈধ নির্মাণ বলে মনে হওয়ায় পুরসভায় লিখিত অভিযোগ জানান তুলসীবাবু। সেই ঘটনার জেরেই রবিবার নিউ ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ঘটনাস্থলে আসেন। অভিযোগ, সেখানে তুলসী অধিকারীর ছেলে হেমন্ত অধিকারীকে মারধর শুরু করেন কাউন্সিলর।
পরিবারের দাবি, ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন তুলসী অধিকারী। সেই সময় তাঁকেও লাথি মারা হয়। গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। দ্রুত তাঁকে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।
ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই তৃণমূল কংগ্রেস অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের হতে পারে। ফৌজদারি মামলা শুরু হলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর।
অন্য দিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রবিবার তিনি পথশ্রী প্রকল্পের উদ্বোধনে সেখানে গিয়েছিলেন। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি পুলিশকে জানান, সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। পরে তিনি একটি চায়ের দোকানে বসলে তুলসী অধিকারী ও তাঁর ছেলে এসে তাঁকে গালমন্দ করেন এবং জামার কলার ধরে মারধরের চেষ্টা করেন বলে দাবি কাউন্সিলরের। তাঁর বক্তব্য, ওই প্রবীণ ব্যক্তি নিজে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান এবং পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ দিকে, মৃতের পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ঘটনায় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংও দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ শোনা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় প্রশাসন ও শাসকদলের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।