যোগ্য ও অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের আলাদা করা যায়নি। যে কারণে ২০১৬ SSC-র পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন রায়ে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, অশিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল করে দেয় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। তবে ব্যতিক্রমী ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাস। তাঁর চাকরি যাচ্ছে না। কী কারণ?
এদিন সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ SSC মামলায় জানায়, "নিয়োগে বিরাট বড় দুর্নীতি হয়েছে। পুরো প্রসেস টেম্পটেড ছিল। আর কিছু রিপেয়ার করা যাবে না। যে নিয়োগ হয়েছিল তার ক্রেডিবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।" এরপরই সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, অবৈধ শিক্ষকদের টাকা ফেরত দিতে হবে। তবে নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারবেন চাকরি প্রাপকরা। ফ্রেশ সিলেকশন প্রসেস করতে হবে। এই ফ্রেশ সিলেকশন প্রসেসের কাজ তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে রাজ্যকে নির্দেশ। যে সমস্ত প্রার্থীরা অযোগ্য নয়, তাঁরা যে ডিপার্টমেন্টে কাজ করতেন সেখানে ফেরত যেতে পারবেন। বিশেষভাবে সক্ষমদের চাকরি থাকছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিলের রায়েও পুরো প্যানেল বাতিল করা হয়েছিল। তবে ছাড় পেয়েছিলেন সোমা দাস। হাইকোর্টের ‘অনুরোধে’ চাকরি রয়েছিল তাঁর। চাকরির জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়েছেন সোমা। তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগানো মুশকিল হয়ে পড়ে। সেই সময় দুর্নীতি মামলার বিচারের দায়িত্বে থাকা বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশেষ 'অনুরোধে' সোমা দাসের চাকরি হয়। এরপর ২০২২ সালের জুন মাসে তিনি স্কুলের চাকরিতে যোগ দেন।
বীরভূমের নলহাটির সোমা ২০১৬ সালে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের (এসএলএসটি) পরীক্ষায় বসেছিলেন। এরপর ২০১৯-এ তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে। অসুস্থতা নিয়েই চারবছর ধরে SSC-তে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। হাইকোর্ট পুরো প্যানেল চাকরি বাতিল করলেও, চাকরি বহাল ছিল সোমার। একই রায়ে বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টও।