রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর, এলাকায় ভাঙচুর

পুলিশ জানিয়েছে, রামনবমীর শোভাযাত্রা চলাকালীন হঠাৎই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। সেই বচসা দ্রুত সংঘর্ষের রূপ নেয়। উভয় পক্ষের তরফে ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং এলাকায় ভাঙচুর করা হয়।

Advertisement
রামনবমীর শোভাযাত্রা ঘিরে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জঙ্গিপুর, এলাকায় ভাঙচুর ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে
  • দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ
  • এলাকাজুড়ে অশান্তি

রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ। এলাকাজুড়ে অশান্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রামনবমীর শোভাযাত্রা চলাকালীন হঠাৎই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। সেই বচসা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের তরফে ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং এলাকায় ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু হয় লাঠিচার্জ। টহলদারি বাড়ানো হয়। নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোথাও নতুন করে কোনও অশান্তির খবর নেই। এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ রুট মার্চ করছে এবং সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

একজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, 'পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহলদারি চালানো হচ্ছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিশের লাঠির আঘাতে বেশ কয়েক জন জখম হন।

অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ওই এলাকার সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। একটি সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকেও বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। 

Advertisement

এই সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, 'জঙ্গিপুরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। রামনবমীর মিছিল থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর হামলা হয়। কিছুজন জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সেখানকার প্রশাসন কেন ঘটনা ঠেকাতে পারল না? প্রশাসন আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নিতে পারল না? রাম-রহিমের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। রামনবমীর দিন যদি অশান্তি ঘটানো হয় তাহলে তা রামের অপমান বলে আমি মনে করি। এই ঘটনার পর মুর্শিদাবাদের একটা অংশের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কোনও অশান্তি চাই না। নির্বাচন যখন আসে তখন কেন এমন ঘটনা ঘটে, সেটাও আম আদমিকে ভাবতে হবে।' 

POST A COMMENT
Advertisement