উদ্ধার হয়েছে বিজেপি কর্মী কিশোর মাঝির রক্তাক্ত দেহভোটের উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন দল প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারেও নেমে পড়েছে। আর এর মাঝেই রায়দিঘিতে বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে উদ্ধার হয়েছে বিজেপি কর্মী কিশোর মাঝির রক্তাক্ত দেহ। ওই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রায়দিঘি বিধানসভার ২১৬ নম্বর বুথের মেনা গ্রামে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। কীভাবে এবং কেন এই খুনের ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কিশোর মাঝি এলাকার BJP কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিজেপির স্থানীয় নেতারাও তেমনই দাবি করছেন। BJP-র দাবি, ওই ব্যক্তিএলাকার সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবাদের জেরেই তাঁকে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মীরা। অন্য দিকে, BJP-র এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল দাবি করেছে, নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকার জন্য তৃণমূলের উপরে দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
যদিও তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই। ত্রিকোন প্রেমের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে কিশোরকে খুন করেছেন স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্ত্রী অনিমা দাস এবং তার প্রেমিক গোবিন্দ হালদারকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোর দাসের স্ত্রীর সঙ্গে পাশের বাড়ির বাসিন্দা গোবিন্দ হালদারের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সোমবার রাতে ফোন করে কিশোর দাসকে বাড়ির বাইরে ডাকা হয়। পরে এলাকাবাসী তাকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দু'জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পেছনে আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ভাবে অনুমান, সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরেই খুন করা হয়েছে কিশোরকে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।