মমতার উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝেই বিজেপিতে গ্রেটার কোচবিহার নেতা, প্রাক্তন TMC বিধায়কBangshi Badan Barman Argha Roy Pradhan Joins BJP: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কোচবিহারের রাজনীতিতে বড়সড় উলটপুরাণ। মঙ্গলবার গেরুয়া শিবিরে শামিল হলেন গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন এবং তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান। কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তাঁরা পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন, ঠিক সেই আবহেই কোচবিহারের এই দুই হেভিওয়েট নেতার দলবদল শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝেই এটি তাঁর জন্য বিজেপির পক্ষ থেকে এক ‘বিশেষ উপহার’।
বংশীবদন বর্মনের বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণে বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজবংশী সমাজের উন্নয়নের স্বার্থে বংশীবদনবাবু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কিছু প্রস্তাব রেখেছেন, যা সাদরে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বংশীবদন নিজে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অনুগামী ও গ্রেটার কর্মীরা এবার সরাসরি বিজেপিকেই সমর্থন জোগাবেন। অন্যদিকে, হলদিবাড়ির দাপুটে নেতা অর্ঘ্য রায়প্রধান তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন। তাঁর সঙ্গে মেখলিগঞ্জ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি বাপ্পা মণ্ডলও এদিন গেরুয়া উত্তরীয় পরে নেন।
কোচবিহারের রাজনীতিতে অর্ঘ্য রায়প্রধান এবং বংশীবদন বর্মনের প্রভাব অপরিসীম। বিশেষ করে মেখলিগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায় অর্ঘ্যবাবুর ব্যক্তিগত জনভিত্তি এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের ওপর বংশীবদনের নিয়ন্ত্রণ ভোটের ময়দানে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, কোনওরকম স্বার্থ বা পদের আশা ছাড়াই তাঁরা বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে এসেছেন। চৈত্র মাসের এই তপ্ত আবহাওয়ায় উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল, রাজনীতির পারদ এখন ফুটছে। ভোটের বাক্সে এই ‘হেভিওয়েট’ দলবদলের প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।