
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়Abhishek Banerjee Letter To EC: ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল। শুক্রবার কলকাতার এসপ্ল্যানেড মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে মূলত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই অবিলম্বে চূড়ান্ত এবং সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। দলটির দাবি, বর্তমান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ ভোটার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অর্থাৎ মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ নাম মুছে গেছে। এর ফলে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.০৪ কোটিতে।

এছাড়াও প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা আইনি যাচাইয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই আইনি যাচাইয়ের অজুহাত ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের নাম নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
তৃণমূলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং সাংবিধানিক নিয়ম মেনে স্থানীয় স্তরে পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে। ভোটার তালিকার ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করা উচিত। এতে সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন তাঁদের নাম নিয়ে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কলকাতার এসপ্ল্যানেড মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘যৌথ ষড়যন্ত্র’ করে বাংলার ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, যাঁদের সরকারি নথিতে মৃত দেখানো হয়েছে, অথচ তাঁরা জীবিত, এমন ভোটারদের সরাসরি মঞ্চে হাজির করা হবে। পাশাপাশি তৃণমূল নেতৃত্ব এই ভোটার তালিকা সংশোধনকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর সঙ্গেও যুক্ত করছে এবং বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ইস্যুতে তৃণমূল ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এটি শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই।