পাচার চক্র ফাঁসবাংলাদেশ থেকে ট্রাকে লুকিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। নাক ডাকার শব্দেই ধরা পড়ে গেল চক্রান্ত। মালদার ইংরেজবাজারের মহদিপুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিএসএফের ১১৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা এক বাংলাদেশি যুবককে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেন। তাঁকে সাহায্যের অভিযোগে ট্রাকচালককেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মহম্মদ আলমগির কবীর (২৬)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার ছোট বনাগ্রামে। অভিযুক্ত ট্রাকচালক সাজু ঘোষের বাড়ি মালদার কালিয়াচক থানার আলিনগরে। শনিবার দু’জনকেই মালদা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, শুক্রবার সকালে পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে সাজু ঘোষ মহদিপুর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের শিবগঞ্জে যান। সেখানে পণ্য নামানোর পর বিকেলে খালি ট্রাক নিয়ে ফের ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, সেই সময়েই মোটা টাকার বিনিময়ে আলমগিরকে ট্রাকের পিছনে লুকিয়ে ভারতে আনার পরিকল্পনা হয়।
বিএসএফ সূত্রে খবর, ট্রাকটি মহদিপুর চেকপোস্টে ঢোকার পর জওয়ানরা প্রথমে কাউকে দেখতে পাননি। কিন্তু ট্রাকের পিছন দিক থেকে নাক ডাকার শব্দ শুনে সন্দেহ হয় তাঁদের। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, পলিথিন ও নোংরা বস্তার নিচে লুকিয়ে রয়েছেন এক যুবক। বন্দুকের নল দিয়ে খোঁচা দিতেই চিৎকার করে ওঠেন তিনি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জেরায় ট্রাকচালক স্বীকার করেছেন, পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই বাংলাদেশি যুবককে ভারতে আনার চুক্তি হয়েছিল। আলমগির জানিয়েছেন, বিএসএফের নজর এড়াতে তিনি ট্রাকের পিছনে পলিথিনের তলায় লুকিয়েছিলেন। গাঁজা সেবনের পর ঘুমিয়ে পড়ায় বিপত্তি ঘটে। আদালতে যাওয়ার পথে তিনি বলেন, “নাক ডাকার শব্দ যে বিপদ ডেকে আনবে, ভাবিনি।”
পুলিশের দাবি, মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে এর আগেও একই কায়দায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই ট্রাকচালকদের জড়িত থাকার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছেন। মালদার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙা এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে বাংলাদেশি এক পরিবার-সহ এক ভারতীয় বাসিন্দাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ রুখতে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।