চ্যাংরাবান্ধায় গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তেজনা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, গ্রেফতার একাধিকChangrabnadha Clash: কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের চিতিয়ারডাঙা এলাকায় গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া বিবাদের জেরে বৃহস্পতিবার সকালেও পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় কড়া পুলিশি প্রহরা জারি রয়েছে।
মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একটি মাস পিটিশন জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর হামলা চালায়, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে চ্যাংরাবান্ধার চিতিয়ারডাঙা এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে বিবাদ শুরু হয়। দ্রুত সেই বিবাদ উত্তেজনায় পরিণত হয়। খবর পেয়ে রাতেই মেখলিগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইলিয়াস রহমান। তাঁদের হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সারা রাত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল এবং পথ অবরোধ করা হয়। সেই সময় উত্তেজিত জনতা এলাকার একটি বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বাড়ির পাশে রাখা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের উপর ইটবৃষ্টি শুরু হয়। অভিযোগ, পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইলিয়াস রহমান জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।