Falakata Bridge Colpased: শীতলকুচির পর ফালাকাটা, ৩ দিনে উত্তরবঙ্গে ভেঙে পড়ল দ্বিতীয় সেতু

Falakata Bridge Colpased: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই সময় সেতুর উপর ও আশপাশে বাজারের কারণে প্রচুর মানুষের যাতায়াত ছিল। জটেশ্বর দিক থেকে দেওগাঁওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ডাম্পারটি সেতুর মাঝখানে উঠতেই আচমকা ভার সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে সেতুর অংশ। তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন মানুষজন।

Advertisement
শীতলকুচির পর ফালাকাটা, ৩ দিনে উত্তরবঙ্গে ভেঙে পড়ল দ্বিতীয় সেতুফালাকাটায় সেতু ভেঙে পড়ল

Falakata Bridge Colpased: জনবহুল বিকেলের বাজার চলাকালীন আচমকা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেল ফালাকাটা ব্লক। জটেশ্বর ও পাঁচমাইল সংযোগকারী মুজনাই নদীর উপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ বঙ্কিম ঘাট সেতু হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটা নাগাদ বালিবোঝাই একটি ডাম্পার সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছনোর পরই বিকট শব্দে সেতুর একটি বড় অংশ নদীতে ধসে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই সময় সেতুর উপর ও আশপাশে বাজারের কারণে প্রচুর মানুষের যাতায়াত ছিল। জটেশ্বর দিক থেকে দেওগাঁওয়ের দিকে যাওয়ার সময় ডাম্পারটি সেতুর মাঝখানে উঠতেই আচমকা ভার সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে সেতুর অংশ। তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা, আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন মানুষজন।

দুর্ঘটনায় ডাম্পারটি সেতুর ভাঙা অংশে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে যায়। ভাগ্যক্রমে চালক গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পান এবং অক্ষত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় বড়সড় প্রাণহানি না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও আতঙ্কের রেশ রয়ে গিয়েছে।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুজনাই নদীর দু’পাড়ে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জটেশ্বর ফাঁড়ি ও ফালাকাটা থানার পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর দু’পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বঙ্কিম ঘাট সেতুর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। ফাটল, ক্ষয় এবং দুর্বল কাঠামোর বিষয়টি প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও ভারী যান চলাচলের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। সেই গাফিলতির ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় বলে দাবি বাসিন্দাদের।

সেতু ভেঙে পড়ায় জটেশ্বর ও পাঁচমাইল এলাকার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এর ফলে নিত্যযাত্রী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ বিকল্প পথে ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, বাড়ছে ভোগান্তি।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ডাম্পার উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে এবং সেতু ভাঙার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠছে, জরাজীর্ণ সেতু ও রাস্তা নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ব্যস্ত সময়ে এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না হওয়াই একমাত্র স্বস্তির বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

POST A COMMENT
Advertisement