শুভেন্দু অধিকারী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়BJP Strategy North Bengal: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই মহারণের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। একদা যা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অভেদ্য দুর্গ, সেই উত্তরবঙ্গেই এখন পদ্ম শিবিরের প্রবল প্রতাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডুয়ার্স থেকে তরাই, সর্বত্রই গেরুয়া ঝড়ের গতিবেগ বাড়াতে বিশেষ রণকৌশল নিয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে চা বলয় এবং রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া মোদি-শাহের সেনাপতিরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের এই আটটি জেলা এখন কার্যত দুই শিবিরের কাছেই ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজেপির রণকৌশল মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে উসকে দেওয়া। এর আগে লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপির জয়জয়কার তৃণমূল নেতৃত্বকে গভীর চিন্তায় ফেলেছিল। পালটা দিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তরবঙ্গ সফর বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছেন। তবুও স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা কি শাসকদলের পথে কাঁটা হবে? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলিতে বিজেপি যেভাবে নিজেদের সংগঠন মজবুত করেছে, তা শাসকদলের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগকে হাতিয়ার করেই এগোচ্ছে পদ্ম শিবির। পৃথক রাজ্যের দাবি বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জল্পনাকে উসকে দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। এর বিপরীতে তৃণমূলের হাতিয়ার হলো ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্প। চৈত্র মাসের এই তপ্ত আবহাওয়ায় উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল, রাজনীতির পারদ এখন ফুটছে। শেষ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের মানুষ কার মাথায় সাফল্যের মুকুট পরাবেন, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, উত্তরবঙ্গের ফলাফলই নবান্নের মসনদ কার দখলে থাকবে, তার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।