নৈহাটির বড়মার মন্দিরে সুন্দরীর মা-কে বাধা?নৈহাটির বড়মার মন্দিরে তুলকালাম কাণ্ড। পুজো দিতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করলেন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। পাল্টা তাঁদের বিরুদ্ধে মন্দিরের বদনাম করার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের। বড়মার মন্দিরের ভিতর তুমুল বচসার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল?
কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। নৈহাটির বড়মার মন্দিরে মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে পুজো দিতে গিয়েছিলেন 'সুন্দরীর মা' হিসেবে ফেসবুকে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মলি চক্রবর্তী। কিন্তু মন্দিরের ভিতর থেকে তাঁর মেয়ে সায়নীর একটি ভিডিও তুমুল বিতর্ক তৈরি করে। যেখানে দেখা যায় মন্দিরের ভিতরে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছেন সায়নী ও মলি। তাঁদের অভিযোগ, ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। কর্তৃপক্ষের তরফে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
'সুন্দরীর মা' ফেসবুক লাইভ করে অভিযোগ করেন, 'আমার মেয়ে ছবি তুলছিল, ভিডিও অনও করেনি তখনও। আমাদের বাধা দেওয়া হল। আমরা যখন বললাম যে সেলেবদের তো বাধা দেওয়া হয় না। তখন আমাদের বলা হল, আগে সেলেব হয়ে এসো, তারপর ফটো তুলো। আমার স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে মারার চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়েছে। অভদ্রের মতো ব্যবহার করা হয়েছে আমাদের সঙ্গে। কেন তাহলে লেখা রয়েছে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার? সে কারণেই আমরা মন্দির থেকে ফেসবুক লাইভ করে বিষয়টা দর্শকদের জানিয়েছি।'
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in-কে নৈহাটির বড়মার মন্দিরের সভাপতি তাপস ভট্টাচার্য বলেন, 'যখন আরতি করা হয়, ভোগ দেওয়া হয় তখন ছবি তুলতে বারণ করা হয় কারণ সে সময়ে মন্দির পরিষ্কার করা হয়। আমরা কাউকে ছবি তুলতে বারণ করি না। যে কেউ এসে মন্দিরের ভিতর ছবি তুলতে পারেন। মায়ের ভোগ দেওয়ার সময়ে ওঁরা এসে ছবি তুলতে চাইছিল তাই বারণ করা হয়েছিল। আর তাতেই রেগে গিয়ে ওঁরা ভিডিও করেছে। অভিযোগ করছে সেলেব্রিটিদের সঙ্গে একরকম আর সাধারণ মানুষের সঙ্গে আর একরকম আচরণ করা হয়। এক জন নেতা বা সিনেমার নায়ক এলে তাঁকে তো লাইনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু ওঁরা জোর করে বলছেন, আগে আমরা ছবি তুলব, মায়ের ভোগ পরে হবে। বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে দিলেন হঠাৎ করেই। ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাদের মন্দিরের নাম বদনামের চেষ্টা হচ্ছে। সিসিটিভি-তে দেখে নিন ওঁদের সঙ্গে কেউ কোনও খারাপ ব্যবহার করেনি।'
এদিকে, ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দাবি, 'অনেকেই আমাদের বলছেন, আমরা ভাইরাল হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে এই অভিযোগ করেছি। সকলকে বলতে চাই, আমাদের পেজ ঘুরে দেখুন, নতুন করে ভাইরাল হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আমরা আগেও বড়মার মন্দিরে গিয়েছি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটেনি।' সব মিলিয়ে নৈহাটির বড়মার মন্দিরের এই ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম।