বাংলার ১০১টি রেল স্টেশন হবে এয়ারপোর্টের মতো, কত টাকা বরাদ্দ হল বাজেটে?

২০২৬-২০২৭ কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের ঝুলিতে রেলের বরাদ্দের পরিমাণ ব্যাপক বাড়াল কেন্দ্র। এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ নতুন রেল ট্র্যাক তৈরি, স্টেশনের উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

Advertisement
বাংলার ১০১টি রেল স্টেশন হবে এয়ারপোর্টের মতো, কত টাকা বরাদ্দ হল বাজেটে?এয়ারপোর্টের মতো ঝাঁ চকচকে হবে বাংলার ১০১টি স্টেশন
হাইলাইটস
  • এয়ারপোর্টের মতো ঝাঁ চকচকে হবে বাংলার ১০১টি স্টেশন।
  • বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ যেন বিজেপির কাছে পাখির চোখ।
  • বাজেটে বাংলায় রেলের প্রকল্পের জন্য কত বরাদ্দ হল?

পূর্ব ভারতের উন্নতি সাধনে কেন্দ্র যে বদ্ধপরিকর, তা এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহেরা। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ যেন বিজেপির কাছে পাখির চোখ। ইতিমধ্যেই গত এক মাসের মধ্যে রাজ্য থেকে ১০টিরও বেশি নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২০২৭ কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের ঝুলিতে রেলের বরাদ্দের পরিমাণ ব্যাপক বাড়াল কেন্দ্র। এই বাজেটে বাংলায় রেলের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।

সাংবাদিক  সম্মেলন করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোমবার বাজেটে পশ্চিমবঙ্গে রেলের বরাদ্দের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০৯-১৪ সালে বাংলায় রেলের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৩৮০ কোটি টাকা। তা প্রায় ৩ গুণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ নতুন রেল ট্র্যাক তৈরি, স্টেশনের উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

১০১ টি স্টেশন হবে এয়ারপোর্টের মতো ঝাঁ চকচকে

ভারতীয় রেলের খোলনলচে বদলে ফেলে তাকে আধুনিক করছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যে অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় বাংলায় ১০১টি স্টেশনকে উন্নত করার কাজ চলছে। এই লক্ষ্যে মোট ৩৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে রেল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় আনারা, বরাভূম, হলদিয়া, জয়চণ্ডী পাহাড়, কল্যাণী ঘোষপাড়া, কামাখ্যাগুড়ি, পানাগড়, সিউড়ি ও তমলুক স্টেশনের ভোল বদলে ফেলা হয়েছে। এই স্টেশনগুলিতে কাজ শেষ করা হয়েছে।

১০০ শতাংশ ইলেকট্রিফিকেশনের কাজ

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পুরো রেল ট্র্যাকগুলিতে ইলেকট্রিফিকেশনের কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্যই মোট ৩২০০টি কবচ সিস্টেম বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১০৫টি লোকোমোটিভে  ইতিমধ্যেই কবচ সিস্টেম ইনস্টল করা হয়েছে। ১০৪১টিতে এখনও কাজ চলছে।

এছাড়াও রাজ্যে রেলের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বহু প্রিমিয়াম ট্রেন চালানো হচ্ছে। ১ জোড়া স্লিপার বন্দে ভারত, ৯ জোড়া সাধারণ বন্দে ভারত ও ১১ জোড়া অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে অথবা বাংলা থেকে অন্য রাজ্যে চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, আগামী দিনে বাংলায় রেলের আরও কাজ হবে বলেও জানানো হয়েছে।

Advertisement

এছাড়াও, কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে  শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চ-গতির করিডোর নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। বুলেট ট্রেনটি বারাণসী থেকে  শিলিগুড়ি পর্যন্ত চলবে। ট্রেনটি বিহারের রাজধানী পটনা এবং কাটিহার স্টেশনে থামবে।

অন্যদিকে, চিকেনস নেক নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মাটির নীচে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে ৪০ কিমি স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই আন্ডার গ্রাউন্ড রেললাইন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখবে। এই স্ট্র্যাটেজিক করিডর তৈরি হচ্ছে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নিকে।

 

POST A COMMENT
Advertisement