
ট্রেনে পাথর ছোড়া রুখতে এবার বদ্ধ পরিকর পূর্ব রেল। ট্রেনে পাথর ছোড়া ব্যক্তির হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও। এমন অপরাধ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত ভাবে প্রচার অভিযান চালাচ্ছে রেল। কিন্তু তারপরেও নানা ঘটনা বারেবারেই সামনে আসছে। ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত পাথর ছোড়ার ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পূর্ব রেল। তাতে দেখা গিয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
হাওড়া ডিভিশনে ৬টি পাথর ছোড়ার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে এবং ৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার ফলে ৪টি মামলা শনাক্ত হয়েছে এবং ৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। শিয়ালদা ডিভিশনে ৪টি ঘটনা এবং ৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩টি মামলা শনাক্ত এবং ৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আসানসোলে ৬টি ঘটনা এবং ৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও এ পর্যন্ত মাত্র ১টি মামলা শনাক্ত হয়েছে এবং ২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। মালদায় ৫টি ঘটনা এবং ৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩টি শনাক্তকরণ এবং ০৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ডিভিশনগুলোতে মোট ২১টি ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। ২১টি মামলা রেজিস্টার হয়েছে, ১১টি মামলা শনাক্ত হয়েছে এবং ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ১২টি রিপোর্ট করা হয়েছে। ১২টি মামলাই রেজিস্টার করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭টি কেস সনাক্ত করা হয়েছে ও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯ অনুযায়ী ট্রেনে পাথর ছোড়া একটি গুরুতর অপরাধ। ধারা ১৫২ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি আঘাত বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ট্রেনে পাথর বা অন্য কোনো বস্তু নিক্ষেপ করে, তবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
এছাড়াও ধারা ১৫৪ উল্লেখ রয়েছে, যদি কোনও নির্দিষ্ট হত্যার উদ্দেশ্য ছাড়াও পাথর ছোড়া হয় তবে দোষীর এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন , "ভুলে গেলে চলবে না, যে প্রত্যেকে সিসিটিভি (CCTV) নজরদারির আওতায় রয়েছেন। রেললাইনের কাছে হওয়া যে কোনও ঘটনা রেকর্ড করা হচ্ছে। এই রেকর্ডিংগুলি অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।"