
এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে। প্রতিপক্ষ হংকং। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর কোচিতে ফিরছে ভারতীয় ফুটবল দলের বড় ম্যাচের আয়োজন। কিন্তু মাঠে বল গড়ানোর আগেই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়ল গোটা আয়োজন। স্টেডিয়ামের বকেয়া ভাড়া না মেটানোয় গেটের বাইরে আটকে দেওয়া হল জাতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল এবং কয়েকজন ফুটবলারকে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কোচি জওহরলাল নেহরু ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কোচ খালিদ জামিলের সঙ্গে সময়মতো পৌঁছে যান আশিক কুরুনিয়ান, সাহাল আবদুল সামাদ এবং বিজয় বর্গিস। কিন্তু সেখানে গিয়েই চরম অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে হয় তাঁদের। স্টেডিয়ামের গেটই খোলা হয়নি। নিরাপত্তারক্ষীরা সাফ জানিয়ে দেন, বকেয়া অর্থ মেটানো না হওয়ায় কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।
খবর অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের জন্য প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট এবং অতিরিক্ত ৩ লক্ষ টাকার ভাড়া বাকি ছিল। আয়োজক সংস্থা কেরালা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আরও কিছু সময় চাইলেও স্টেডিয়ামের মালিক গ্রেটার কোচিন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। ফলে কোচ ও খেলোয়াড়দের বেশ কিছুক্ষণ গেটের বাইরে অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়। বাতিল হয়ে যায় নির্ধারিত সাংবাদিক বৈঠকও।
কেরালা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাভাস মিরান অবশ্য ঘটনাটিকে বড় করে দেখতে নারাজ। তাঁর দাবি, এটি একটি ‘ছোটখাটো প্রযুক্তিগত সমস্যা’ এবং ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। তবে জাতীয় দলের কোচকে স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া, এমন ছবি আদৌ ছোট সমস্যা কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম নয়। এর আগেও একই স্টেডিয়ামে বকেয়া ভাড়ার জেরে সমস্যায় পড়েছিল আইএসএল ক্লাব কেরালা ব্লাস্টার্স। অর্থাৎ আয়োজক সংস্থা ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার সামনে আসছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে খেলোয়াড়দেরই।
৩১ মার্চ হংকংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ হওয়ার কথা। আয়োজকরা সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু ততদিনে ভারতীয় ফুটবলের ভাবমূর্তিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। মাঠে লড়াইয়ের আগেই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সামনে যেন একপ্রকার ‘হার’ মানতে হচ্ছে, এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।