Mohammed Shamiবিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করলেন মহম্মদ শামির স্ত্রী হাসিন জাহান। তাঁর অভিযোগ ছিল, শামির বিরুদ্ধে মারধোরের পাশাপাশি ভরণপোষণ মামলাটি কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের আবেদনও করেছেন।
তাঁর আবেদনে হাসিন জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর মেয়েকে নিয়ে দিল্লিতে আরো ভালভাবে শিক্ষা দেওয়ার জন্য চলে এসেছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের আদালতের শুনানিতে যোগ দিতে যাওয়া তাঁর পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। হাসিন জানিয়েছেন যে ক্রিকেটার মহম্মদ শামি গোটা দেশে খেলার কারণে যান, সে কারণেই দিল্লিতে মামলা লড়তে তাঁর পক্ষে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পর্যাপ্ত সম্পদ এবং সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। শামির পরিবারও উত্তর প্রদেশে থাকে, যা কলকাতার চেয়ে দিল্লির কাছাকাছি। আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত মামলার সঙ্গে সংযুক্ত সকল পক্ষকে নোটিস জারি করেছে। এই নির্দেশ দেন বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ।
আবেদনকারী হাসিন জাহান ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ইসলামিক রীতিনীতি অনুযায়ী মহম্মদ শামিকে বিয়ে করেন। ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই তাঁদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৮ সালে হাসিন জাহান ‘পারিবারিক সহিংসতা থেকে নারী সুরক্ষা আইন, ২০০৫’-এর অধীনে মামলা শুরু করেন।
অভিযোগে তিনি জানান, বিয়ের পর শামি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে তিনি এবং তাঁর নাবালিকা মেয়ে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর ভিত্তিতে ৮ মার্চ ২০১৮ তারিখে যাদবপুর থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়।
২০১৯ সালের অগাস্টে আলিপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামি ও তাঁর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে সেশনস কোর্ট সেই কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয়, যা চার বছর বহাল ছিল। আবেদনকারী হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করলেও তা খারিজ হয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেশনস কোর্টকে এক মাসের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা সংক্রান্ত কার্যক্রম নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। গত বছর কলকাতা হাই কোর্ট শামিকে আবেদনকারী ও তাঁর কন্যাকে অন্তর্বর্তী ভরণপোষণ হিসেবে প্রতি মাসে ৪ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে হাসিন সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মাসিক ১০ লক্ষ টাকা ভরণপোষণের দাবি জানান।