Courtesy: IPL/X'ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার' নিয়মের বিরোধিতা করেছিলেন আইপিএল দলগুলির অনেক অধিনায়ক। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, তাহলে কি এই নিয়ম প্রত্যাহার করবে বোর্ড? অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়ে গেল। বিসিসিআই জানিয়ে দিল, নিয়মে কোনও পরিবর্তন আসছে না। ২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট হবে একই নিয়মে।
আইপিএল শুরুর আগে প্রতিবারই সব দলের অধিনায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসে BCCI। বুধবার তা অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মূলত খেলার নিয়ম, নতুন ট্রেনিং প্রোটোকল এবং ম্যাচ ডে সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা হয়। আজকের এই বৈঠকটি পরিচালনা করেন জাভাগল শ্রীনাথ এবং নিতিন মেনন। তাঁরা দুজনেই ম্যাচ পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অধিনায়কদের সামনে ব্যাখ্যা করেন।
অধিনায়কদের মধ্যে অংশ নেন ইশান কিশান (সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অস্থায়ী অধিনায়ক), হার্দিক পাণ্ডিয়া (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স), শুভমন গিল (গুজরাত টাইটান্স) এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াড় (চেন্নাই সুপার কিংস)।
বৈঠকে 'ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার' নিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। যা প্রথম চালু হয় ২০২৩ সালে। এই নিয়ম অনুযায়ী, একটি দল ম্যাচ চলাকালীন যে কোনও সময় প্রথম একাদশ থেকে একজন খেলোয়াড়কে বদল করতে পারে। অনেক অধিনায়ক এই নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এতে খেলার ভারসাম্য নষ্ট হয়। ব্যাটিং দল বেশি সুবিধা পায়। তবে বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ২০২৭ সাল পর্যন্ত নিয়ম চালু থাকবে। তার আগে কোনও পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করা হবে না। ফলে আপাতত এই নিয়ম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তা বহাল থাকছে।
বৈঠকে বল পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসের ১০ ওভারের পরে বল পরিবর্তন করা যায়। কারণ, শিশিরের কারণে বল ধরা কঠিন হয়ে যায়। এক অধিনায়ক প্রস্তাব দেন, প্রথম ইনিংসেও একই নিয়ম চালু করা হোক। কিন্তু এই প্রস্তাব তেমন সমর্থন পায়নি। বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, শিশির সাধারণত দ্বিতীয় ইনিংসে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই বর্তমান নিয়মই বজায় থাকবে।
নতুন ট্রেনিং প্রোটোকল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। বোর্ড জানায়, ম্যাচের দিনে কোনও দল প্র্যাকটিস করতে পারবে না। এছাড়া যদি কোনও দল নির্ধারিত সময়ের আগে প্র্যাকটিস শেষ করে, তবে অন্য দল সেই অতিরিক্ত সময় ব্যবহার করতে পারবে না। এই নিয়ম পিচের অবস্থা ঠিক রাখার জন্য করা হয়েছে। অধিনায়কেরা এই নিয়ম নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন। বোর্ড জানায়, সব মাঠে সমান পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এই নিয়ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকের শেষে খেলোয়াড়দের আচরণ এবং স্লো ওভার রেট নিয়েও আলোচনা হয়। বোর্ড সাফ করে দেয়, ম্যাচের গতি ঠিক রাখা অধিনায়কদের দায়িত্ব। নিয়ম না মানলে শাস্তি দেওয়া হবে।