যুবককে জীবন্ত পোড়াল দুষ্কৃতীরাHoli Violence West Bengal: হোলির দিন কোচবিহারে এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় মানুষ। ঘাড়, পিঠ ও কোমরে আগুন জ্বলতে জ্বলতে রাস্তা দিয়ে দৌড়চ্ছেন এক যুবক, এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের গায়ে আগুন লাগানোর অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত যুবকের নাম সপ্তর্ষি পাটোয়ারি (১৯)। তিনি কোচবিহারের উনিশবিশা গ্রামের বাসিন্দা, যা মাথাভাঙা এলাকার অন্তর্গত। বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। সামনে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সপ্তর্ষি। তাই হোলি খেলতে বাইরে যাননি, বাড়িতেই ছিলেন।
অভিযোগ, দুপুরের দিকে কয়েকজন পরিচিত যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে ডাকতে আসে। তাঁদের সঙ্গে বেরিয়ে গেটের কাছে পৌঁছনোর পর অভিযুক্তরা তাঁর শরীরে গ্রিস জাতীয় একটি দাহ্য পদার্থ স্প্রে করে। এরপর দেশলাই জ্বালিয়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
মুহূর্তের মধ্যে সপ্তর্ষির দুই হাত ও পিঠে আগুন জ্বলে ওঠে। অসহ্য যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে তিনি দৌড়াতে শুরু করেন। সেই সময় তাঁর অবস্থা দেখে ছুটে আসেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারাই কোনওরকমে আগুন নেভান এবং দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন।
সপ্তর্ষির শরীরের পিছনের অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। প্রথমে তাঁকে ঘোকসাডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পাঁচ যুবক পালানোর চেষ্টা করলেও গ্রামবাসীরা তাঁদের ধরে ফেলে। পরে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আহত যুবকের কাকা স্বরাজ পাটোয়ারি ঘোকসাডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ভাইপোকে পরিকল্পিতভাবে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে কেন এমন হামলা করা হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সপ্তর্ষির দিদি অলিভিয়া পাটোয়ারি জানিয়েছেন, ‘কেন আমার ভাইয়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো আমরা জানি না। শুধু চাই, দোষীরা যেন কঠোর শাস্তি পায়।’
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সপ্তর্ষির পূর্ব পরিচিত। এর আগে ওই যুবকের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তবে সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার ধৃত পাঁচজনকে মাথাভাঙা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।