সবচেয়ে বেশি গোমাংস খায় কোন দেশ?গোটা বিশ্বে আমিষ খাওয়া মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। মুরগি, পাঁঠা, গরু, ভেড়া, শূকর এই পশুদের মাংস খাওয়ার চল একাধিক দেশেই রয়েছে। বিশ্বের সব দেশের মধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত দেশে রেড মিট খাওয়ার চল সবচেয়ে বেশি রয়েছে। সেই দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। আর জানেন এই দেশে সবচেয়ে বেশি কোন প্রাণীর মাংস খাওয়া হয়ে থাকে?
গরুর মাংস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। স্ট্রেইটস রিসার্চের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী মোট মাংস ভক্ষণের প্রায় ২৪ শতাংশই গরুর মাংস। স্বাদ, পুষ্টিগুণ এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের কারণে বহু মানুষ গরুর মাংস উপভোগ করে। গিলানি রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং গ্যালাপ পাকিস্তানের ওপর করা রিসার্চ অনুসারে, দেশের অধিকাংশের বেশি বাড়িতে গরুর মাংস সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়। এই সমীক্ষায় কেবল মানুষের খাদ্য পছন্দই দেখায় না, বরং গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে খাদ্যাভ্যাসের পার্থক্যও দেখায়।
২০০৯ সালের ১৫ জুন ইসলামাবাদে প্রকাশিত এই সমীক্ষা অনুসারে, ৫০ শতাংশ মানুষ বলেছেন যে তাদের বাড়িতে সবচেয়ে বেশি গোমাংস খাওয়া হয়। অপরদিকে, ৩৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা বেশিরভাগই মুরগির মাংস, ৯ শতাংশ জন পাঁঠার মাংস ও ২ শতাংশ অন্য মাংস খেয়ে থাকেন। সমীক্ষা আরও বলছে, পাকিস্তানের গ্রামীন এলাকায় বসবাসকারী ৫৩ শতাংশ মানুষ গরুর মাংস খান, যেখানে শহরে এই সংখ্যা ৪৩ শতাংশ। বেলুচিস্তানে মাটন বেশি জনপ্রিয় গোমাংসের তুলনায়। আর খাইবার পাখতুনখোয়াতে গোমাংস বেশি খাওয়া হয়।
সমীক্ষা অনুসারে, মাটন ও মুরগির মাংস বেশি ব্যয়বহুল তাই সাধারণত উচ্চ আয়ের লোকেরা এগুলি বেশি খায়। গরুর মাংস বিক্রি হওয়া শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাও। উভয় দেশেই গো-মাংস দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি অংশ। তবে গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গড়ে একজন আর্জেন্টিনিয়ান প্রতি বছর ৪৬.৯৩ কিলোগ্রাম গরুর মাংস খান। এটি বিশ্বের মাথাপিছু গরুর মাংসের সর্বোচ্চ ব্যবহার।